অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আগ্রাসনে ফিলিস্তিনে চলছে এক রক্তাক্ত নিধনযজ্ঞ। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ হাজার ৫৭৩ জন ফিলিস্তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২৯০ জন। এ নিয়ে মোট আহতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৮৮ জনে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অসংখ্য লাশ এখনও ধ্বংসস্তূপ এবং রাস্তার পাশে পড়ে আছে। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলা এবং চলাচলের পথ অবরুদ্ধ থাকার কারণে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না।
গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ের সমঝোতা ভেঙে দিয়ে ইসরায়েল গাজায় আবারও পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে। এরপর এই পর্যায়ের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪২৭ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৪৭ জন।
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তেজনা সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়। তবে সেই শান্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
বিশ্বব্যাপী নিন্দিত এই আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
একই সঙ্গে, গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটির প্রধান আবেদনকারী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা।
গাজার পরিস্থিতি এখন চরম মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ও প্রতিবাদের পরও অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মৃত্যু, ধ্বংস আর রক্তপাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।