ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে একটি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি আজ শেষ হয়েছে। আর্থিক অপরাধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ওই উন্নয়ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের আঞ্চলিক জোট এক বিবৃতিতে জানায়, বিমসটেক রাজস্ব বিভাগের সহযোগিতায় অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমনবিষয়ক এ আঞ্চলিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমসটেক) মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে উদীয়মান আর্থিক অপরাধ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং পারস্পরিক মূল্যায়নের প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের রাজস্ব বিভাগ, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় করেন।
কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কারিগরি জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবর্তিত আর্থিক অপরাধ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থপাচারবিরোধী গ্রুপ (এপিজি)’র আওতায় পারস্পরিক মূল্যায়নের জন্য সদস্য দেশগুলোকে প্রস্তুত করা।
এতে কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ, কার্যকারিতা, ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতি, আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, তদারকি এবং জাতীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়।
বিমসটেক সচিবালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্যানেল আলোচনায় সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অপরাধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের নতুন প্রবণতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় সীমান্ত-পার সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ, জ্বালানি, পর্যটন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্লু ইকোনমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে।