টি-টোয়েন্টিতে ইতালির পারফর্মেন্সও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো!

ফুটবল দুনিয়ায় ইতালির পরিচিতি আছে ব্যাপক। বাংলাদেশে তো ইতালির সমর্থকগোষ্ঠীও আছে। সেই ইতালি যে ক্রিকেটও খেলে- তা অনেকে জানেই না। শুধু ক্রিকেট নয়, রীতিমতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে! তাদের দলীয় স্কোর বাংলাদেশের চেয়েও বেশি। সম্প্রতি আরব আমিরাতের কাছে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হেরেছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান বলছে, নিচুর সারির অনেক দলের পারফর্মেন্সই টাইগারদের চেয়ে ভালো।

বাংলাদেশের পারফর্মেন্সে এখন এতটাই ভাটা চলছে যে, বিপদের বন্ধু জিম্বাবুয়েও নিরাপদ প্রতিপক্ষ নয়। পরিযায়ী ক্রিকেটারদের নিয়ে জোড়াতালি মারা দল গড়া হংকং, যুক্তরাষ্ট্র আর আমিরাতের সঙ্গেও পেরে ওঠা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে হয়তো স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল, বেলজিয়াম কিংবা ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে লিটনদের খেলতে দেখা যাবে! কিন্তু এই দলগুলোও কি বাংলাদেশের জন্য ‘নিরাপদ’ হবে? মানে তাদের হারানো যাবে তো?

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জো বার্নস ইতালি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হয়ে যাওয়ার পর তাদেরও নিরাপদ প্রতিপক্ষ ভাববার উপায় নেই। রোমানিয়ার বিপক্ষে বার্নসের সেঞ্চুরিতে ইতালি ২৪৪ রান করেছিল ২০ ওভারে। ২০০৬ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি খেলে আসছে বাংলাদেশ, ১৯ বছরে ১১টা বিপিএল আসরে কয়েকশ কোটি টাকা খরচ হয়েছে তবুও এখনো বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ইতালিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ রান। গত বছরের জুনে ইউরোপের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই অঞ্চলের প্রতিযোগিতার পরিসংখ্যান দেখা যাক। দেড়শ’র ওপরে স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে ৫০-এর বেশি রানের ইনিংস খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যান আছে গোটা দশেক। বাংলাদেশ জাতীয় দলে নেওয়ার জন্য এমন ব্যাটসম্যান কয়জনকে পাবেন নির্বাচকরা? সর্বোচ্চ দলগত ইনিংস ২৪৪, এরপর ১৭০-এর বেশি রানের দলীয় ইনিংস আছে ৮টি।

বাংলাদেশের জন্য এখনো টি-টোয়েন্টিতে ১৭০ রান মানে অনেক কিছু। তাই এই দলগুলোর বিপক্ষে খেলা হলে যে বাংলাদেশ জিতবে, সেটাও জোরালোভাবে বলার উপায় নেই। বিশেষ করে গালফ টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সৌদি আরবের কাছে হেরে আসা আরব আমিরাত যখন বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়, তখন দ্বিধাটা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।