ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে টর্চ লাইটের সুইচ চাপতেই বিস্ফোরণে আফরোজ ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আফরোজ ভূঁইয়া (৫০) নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের মৃত মৃত সামছুল হক ভুঁইয়ার ছেলে। তিনি কাঠালকান্দি পশ্চিমপাড়া নতুন জামে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ। মসজিদটি নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে।
আহতের পরিবারের ভাষ্য, এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিতভাবে আফরোজকে ক্ষতি করার অপচেষ্টা। এই অস্বাভাবিক ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কাঠালকান্দি কটুপিপাড়া মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের শাহাজান মিয়া নামে ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। সে বিরোধ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় নিষ্পত্তি হয়। তাই সম্প্রতি প্রবাসীদের অর্থায়নে আফরোজ ভূঁইয়া বাড়ির পাশে কাঠালকান্দি পশ্চিমপাড়া নতুন জামে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। গত বুধবার রাতে গ্রামের সভায় সবার সম্মতিতে তিনি মসজিদের কোষাধ্যক্ষের পদ পান।
শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত চাতলপাড় বাজারে বসে প্রবাসীদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি। বাড়ি ফিরে যাবার সময় প্রায় সোয়া ১২টার দিকে নিজের গোয়ালঘরের সামনে গিয়ে হাতে থাকা ছোট টর্চ লাইট জ্বালান তিনি। সেসময় সেখানে বড়ই গাছের তিনটি ডাল এবং কালো রঙের একটি বড় টর্চ লাইট পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পড়ে থাকা টর্চ লাইটটি হাতে নিয়ে সুইচ চাপ দিতেই বিস্ফোরিত হয়।
এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচ থেকে কবজিসহ কয়েকটি আঙ্গুল এবং ডান উরুর মাংস ছিটকে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজনসহ পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাতলপাড়, পরে রাত দুইটার দিকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ভোর সকাল ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফখরুল আলম আশেক বলেন, আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। টর্চ লাইটের বিস্ফোরণ থেকে এমন হয়েছে। ব্যান্ডেজ খোলার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ঘটনার বিষয়ে বলা যাবে।
আহত আফরোজ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাতে যখন বাজারে বসে কথা বলি তখন চার-পাঁচ জন লোক আমায় ফলো করছিল। বাড়িতে যাওয়ার পরই গরুর গোয়ালঘরের সামনে বড়ই গাছের তিনটি ডাল ও টর্চ লাইট পড়ে থাকতে দেখে হাতে নেই। সুইচে চাপ দিতেই বিকট শব্দে এর বিস্ফোরণ ঘটে। গোয়ালঘরে চোর ঢুকেছে কি না দেখতে টর্চ লাইট হাতে নিয়ে ছিলাম।
তিনি বলেন, কারা করেছেন জানি না তবে এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তবে গ্রামের মসজিদ নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গর কথাও তিনি টেনেছেন।
জানতে চাইলে শাহাজান মিয়া বলেন, আমার সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। টর্চ লাইট বিস্ফোরণে সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে শুনে আমি ব্যথিত। আমাদের উপর দোষারোপ করার কোনো কারণ নেই। আমরা এসবে জড়িত না। বরং রাতে এ ঘটনার পর পুলিশ তার বাড়িতে আসলে তার পরিবারের লোকজন দাবি করেন, চোরেরা কৌশলে এ কাজ করেছে।
চাতলপাড় ফাঁড়ি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমা সদৃশ কোনো বস্তু নাকি টর্চ লাইটের ব্যাটারির বিস্ফোরণ থেকে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
নাসিরনগর থানার ওসি বলেন, টর্চ লাইটের বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। টর্চ লাইট মেয়াদোত্তীর্ণ কি না বা অন্য কিছু কি না বিষয়টি যাচাই করছে পুলিশ।