সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথকীকরণে জারি করা অধ্যাদেশে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধনের ঘোষণা দেয়ার পর কর্মবিরতি স্থগিত করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। ফলে সোমবার (২৬ মে) থেকে দেওয়া আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে না।
রবিবার (২৫ মে) রাত আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে রবিবার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এনবিআর নিয়ে জারিকৃত অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
বিকেলে নতুন কর্মসূচি অনুসারে, সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেশের সব শুল্ক-কর কার্যালয়ে কর্মবিরতি চলবে বলে ঘোষণা দেয় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এর আওতায় থাকবে না। এ ছাড়া ওষুধ ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম আমদানিও কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে। আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম চলবে না।
এরপরই নড়েচড়ে বসে অর্থ মন্ত্রণালয়। সমঝোতার প্রক্রিয়া হিসেবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেওয়া হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি বিভাগ করে ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর পর থেকে এর প্রতিবাদে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদে আজ সারা দিন আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে কর্মবিরতি চলেছে। বেশির ভাগ শুল্ক-কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআরের নিচতলায় প্রধান ফটকের পাশেই সারা দিন অবস্থান করেন। ফলে এনবিআরের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ আছে। আজ সকাল থেকে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র পাওয়া গেছে। গত দুই দিন ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান নিজের কার্যালয়ে আসেননি।
শুধু এনবিআর নয়; ঢাকা কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল, ভোমরা স্থলবন্দরসহ দেশের অন্যান্য শুল্ক স্টেশনেও গতকাল সারা দিন কর্মবিরতি চলে। গত কয়েক দিন ধরে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি মূলত চারটি। সে গুলো হলো-
১। জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে;
২। অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে;
৩। রাজস্ব সংস্কার বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে; এবং
৪। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত খসড়া এবং পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনাপূর্বক প্রত্যাশী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।