আনচেলত্তির ব্রাজিল অধ্যায় শুরু পুরনোদের নিয়ে

ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো স্কোয়াড ঘোষণায় চমকে দিয়েছেন কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন বিশ্বকাপ খেলা তিন অভিজ্ঞ ফুটবলারথ কাসেমিরো, রিচার্লিসন ও অ্যান্টনি। এই তিনজনসহ ১১ জন আছেন ২৫ জনের স্কোয়াডে যারা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। তবে চোটের কারণে নেইমারকে নেননি আনচেলত্তি।

সোমবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে রিও ডি জেনেইরোর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কার্লো আনচেলত্তি তার প্রথম স্কোয়াডের ঘোষণা দেন। এর আগে ৫০০ মিডিয়া প্রতিনিধি, ক্লাব পরিচালক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে তাকে বরণ করে নেয় সিবিএফ। এ সময় বিশ্বকাপজয়ী শেষ ব্রাজিলিয়ান কোচ ফেলিপাও (লুইজ ফেলিপে স্কলারি) আনচেলত্তির হাতে তুলে দেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জাগালোর পরা ট্র্যাকস্যুট।

৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাসেমিরো ফিরেছেন তার পুরনো গুরু আনচেলত্তির অধীনে, যার হাত ধরেই রিয়াল মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন ২০২১-২২ মৌসুমে। বিগ কার্লোর অধীনে এভার্টনে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত খেলেছিলেন রিচার্লিসন। আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাব বেতিসে গিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অ্যান্টনি পেয়েছেন প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। কাসেমিরো সর্বশেষ ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ের বিপক্ষে। রিচার্লিসনের শেষ ম্যাচ ছিল সেপ্টেম্বরে, বাছাইপর্বের বলিভিয়া ও পেরুর বিপক্ষে। আর অ্যান্টনি কাতার বিশ্বকাপের পর কেবল একটি ম্যাচ খেলেছেন ২০২৩ সালের মার্চে মরক্কোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ফেরার উচ্ছ্বাস গোপন করেননি রিচার্লিসন, ‘৫৮৬ দিন পর আবার সেই স্বাদ! আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, ফিরে আসার এই আনন্দটা কতটা বিশাল!’

কাসেমিরোকে নিয়ে রিচার্লিসন বলেছেন, ‘একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। আমি সৌভাগ্যবান যে রিয়ালে তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। জাতীয় দলের জন্য এমন খেলোয়াড় দরকার, যার ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ আছে। আর এ দলে অনেকেই তা রাখে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই দিকগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

নেইমারের বাদ পড়া সম্পর্কে আনচেলত্তি বলেন, ‘এই দলে ডাক দেওয়ার সময় আমি চেষ্টা করেছি ভালো ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করতে। নেইমার কিছুদিন আগেই চোটে পড়েছে। সবাই জানে, নেইমার খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় সবসময়ই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে আমাদের অনেক খেলোয়াড় চোটে ভুগছে এবং তাই জাতীয় দলে থাকতে পারছে না, যেমন নেইমার, যে চোটে পড়েছে। আমি যেটা বলতে চাই, সেটা হলো ব্রাজিলের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে এবং নেইমারের ক্ষেত্রে আমরা তার ওপর ভরসা রাখি। এটা জাতীয় দল ব্রাজিল তার ওপর নির্ভর করে। সে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ব্রাজিলে ফিরে এসেছে খেলতে। আমি আজ সকালে তার সঙ্গে কথা বলেছি বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য এবং সে পুরোপুরি একমত। আমরা এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি।’

বর্তমানে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা ব্রাজিল ১০ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আনচেলত্তির অধীনে প্রথম ম্যাচ খেলবে। এজন্য সাও পাওলোতে শুরু হচ্ছে ট্রেনিং ক্যাম্প।