লক্ষ্মীপুরের কমলনগর তোরবগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. মনির। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। তবে মনির প্রভাব খাটিয়ে ওয়ার্ড বিএনপিতে ঢুকতে বিভিন্ন তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়েছিলেন মনির। তাদের মনে প্রশ্ন- টানা ক্ষমতায় থেকে এলাকার মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মনির বিএনপির পরিচয় দেওয়ার সাহস পান কিভাবে? কিছু সুবিধাভোগী মনিরের কাছ থেকে টাকা খেয়ে তাকে বিএনপির নেতা বানিয়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী মনিরদের মতো লোকেরা যদি বিএনপিতে স্থান পায় তাহলে শহীদ ও আহতের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, গত ১৫ বছর মনিররা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজাকারদের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় এলাকাবাসীকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন। এখন তারাই আবার বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে দেশে স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, সেখানে সমাজের ক্ষতিকর এসব লোককে বিএনপি তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমেই দেখতে চাই না।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, মনির প্রথমে জাসদের রাজনীতি পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। দোসরদের সক্রিয় নেতা হিসেবে এলাকায় আধিপত্য চালিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর এখন তিনি বিএনপি বনে গেছেন। এতে বিগত ১৭ বছরের নির্যাতনের শিকার ও ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। আশা করি দল ত্যাগীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ দেখাবে না।
এ ব্যাপরে কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে যে বিজয় হবে তাকেই নেতা নির্বাচিত করা হবে। তবে মনিরের বিরুদ্ধে যদি আওয়ামীপন্থী প্রমাণ পাওয়া যায়, কর্মীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। দল ও নেতাকর্মীদের স্বার্থে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।