দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৩ শতাংশই পথচারী এবং ৪ শতাংশ সাইকেল আরোহী। গড়ে তারা যথাক্রমে ১১ ও ৯ দিন করে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং প্রতি রোগীর জন্য চিকিৎসা ব্যয় হয় গড়ে ২৭ হাজার ৫৩২ টাকা ও ১৮ হাজার ৯৫২ টাকা।
আজ বুধবার বিআরটিএ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানানো হয়। সভায় পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
রাজধানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএন রোড সেফটি সপ্তাহ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। । এবছর সপ্তাহের প্রতিপাদ্য- পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য নিরাপদ সড়ক।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো. ইয়াসীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ’র রোড সেফটি উইং-এর পরিচালক শীতাংশু শেখর বিশ্বাস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন পরিচালিত রোড সেফটি অ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন প্রোগ্রামের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ওয়ালী নোমান।
সভায় জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ রোডক্র্যাশ। প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ রোডক্র্যাশে মারা যায় এবং প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ আহত হয়। ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণও এই রোডক্র্যাশ। বিশ্বে রোডক্র্যাশে নিহতদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি পথচারী ও সাইকেল আরোহী।
এতে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বে পথচারী মৃত্যুর হার বেড়েছে ৩ শতাংশ এবং সাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে বেড়েছে ২০ শতাংশ। অথচ বিশ্বের ৮০ শতাংশ সড়কে পথচারীদের জন্য কোনো নিরাপদ অবকাঠামো নেই এবং মাত্র শূণ্য দশমিক ২ শতাংশ রাস্তায় রয়েছে সাইকেল লেন। এ পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে ও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপে এ পদ্ধতির বাস্তবায়নে মৃত্যুহার ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সুইডেনে প্রতি লাখে মৃত্যুহার মাত্র ২.৮।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, শহরে দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও যথাযথ আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিআরটিএ ইতোমধ্যে ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪’ জারি করেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর ড. মো. শরিফুল আলম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।