ব্রাজিলকে বিশ্বের সেরা জাতীয় দল বললেন আনচেলত্তি

রিয়াল মাদ্রিদের স্বর্ণালী অধ্যায়ের শেষপাতা টানার পর নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ব্রাজিল এসেছেন কার্লো আনচেলত্তি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ডাগআউটে এখন এই ইতালিয়ান গুরুর লক্ষ্য একটাই—ছয় নম্বর বিশ্বকাপ। মিশন হেক্সা জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে সেলেসাওরা। সেই অভিযাত্রার নেপথ্যে আছেন কার্লো আনচেলত্তি। রিও ডি জেনেইরো থেকে ‘মারকা’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি, পরিকল্পনা এবং রিয়াল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ইতালিয়ান কোচ।

প্রশ্ন: ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে মূল কারণ কী?

আনচেলত্তি: এটা খুব সহজ। ব্রাজিল বিশ্বের সেরা জাতীয় দল। আমি বলছি না, ওদের জার্সির পাঁচটি তারকা বলছে। এমন অর্জন অন্য কোনো দলের নেই। এখন আমার সামনে চ্যালেঞ্জ—ছয় নম্বরটি জেতা। ইতালির দায়িত্ব নেওয়ার প্রসঙ্গও এসেছে, তবে তারা কখনোই আমাকে ডাকেনি। স্পালেত্তি এখন কোচ, এবং তিনি দারুণ কাজ করছেন। ব্রাজিল আমাকে অনেক আগেই চেয়েছিল। অবশেষে সময়-পরিস্থিতি মিলেছে, আর আমি চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি।

প্রশ্ন: দুই বছর আগে যখন ব্রাজিল আগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন আপনি রাজি হননি কেন?

আনচেলত্তি: আমি সব সময় স্পষ্ট কথা বলেছি। আমার অগ্রাধিকার তখন ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি তখনই আমাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেয়, আর আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করিনি।

প্রশ্ন: তাহলে এবার কী এমন ঘটল যে আপনি রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের কোচ হলেন?

আনচেলত্তি: ফল যেমন আমরা আশা করেছিলাম, তেমন হয়নি। খেলাটাও মনমতো হচ্ছিল না। আর্সেনালের সঙ্গে ড্রয়ের পর আমরা আলোচনা করি এবং সিদ্ধান্ত নিই—পরিবর্তন দরকার। তখনই বুঝেছিলাম, রিয়ালের জন্যও নতুন পথ খোঁজা ভালো, আমার জন্যও।

প্রশ্ন: আপনি তো চেষ্টা করেছিলেন দলকে চাঙ্গা রাখতে, এমনকি ভিডিও দেখিয়েও অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন…

আনচেলত্তি: অবশ্যই। আধুনিক ফুটবলে দল মানে একটা পরিবার। রিয়াল তারই উদাহরণ। কঠিন সময় আসে, তবে আত্মবিশ্বাস থাকলে সেখান থেকে ফিরে আসা যায়। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: ব্রাজিলের কোচ হয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

আনচেলত্তি: অসাধারণ। আমি সবসময় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। খেলোয়াড়, সংস্কৃতি—সবকিছুই। জাতীয় দল ভিন্ন কিছু। এখানে একটা দেশ আপনার পেছনে থাকে, সেটা অনুভব করাই আলাদা অনুভূতি।

প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, আপনার ব্রাজিল খেলবে ‘রিয়াল মাদ্রিদের মতো’। কোন রিয়ালের কথা বলছেন?

আনচেলত্তি: গত মৌসুমের রিয়াল মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমের নয়। আমি চাই, আমার দল খেলার মেজাজটা বুঝে খেলুক। এক ছাঁদে আটকে থাকা আমার পছন্দ নয়। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বুঝে ছক সাজানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রশ্ন: রিয়াল মাদ্রিদ থেকে বিদায়… আবেগের কোনো ছাপ রেখেছে?

আনচেলত্তি: অনেক। এটা কোনো বিদায় নয়, বলেছি—‘আবার দেখা হবে’। বার্নাব্যুতে শেষ ম্যাচে যা ঘটেছিল, সেটা চিরস্মরণীয়। খেলোয়াড়, সমর্থক, স্টাফ, এমনকি প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনোও আমাকে দারুণভাবে বিদায় জানিয়েছেন।

প্রশ্ন: মাদ্রিদ শহর কিংবা রিয়ালের প্রতি আপনার অনুভূতি?

আনচেলত্তি: অসাধারণ শহর। এখানে আমি নিজেকে আপন মনে করেছি। রিয়াল মাদ্রিদ যা দিয়েছে, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া অসম্ভব। মিলানও আমার কাছে স্পেশাল, কিন্তু রিয়ালের অভিজ্ঞতা অতুলনীয়।

প্রশ্ন: এমবাপে এসেছে। আপনি নাকি তাকে বলেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততেই হবে’?

আনচেলত্তি: হ্যাঁ, বলেছিলাম। ওর মতো খেলোয়াড় আর রিয়াল মাদ্রিদ—দুইয়ে মিলে শিরোপা তো জিততেই হবে।

প্রশ্ন: ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

আনচেলত্তি: ও অসাধারণ। পরিশ্রমী, লড়াকু, নিবেদিত। ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে গিয়ে চাপ পড়ে, ভুল করার ভয় কাজ করে। কিন্তু আমি জানি, সে নিজের সর্বোচ্চটা দেবে। সে অন্যতম সেরা।

প্রশ্ন: ডাগআউটে এবার আপনি একা। ডেভিড (পুত্র ও সহকারী) নেই। কেমন লাগছে?

আনচেলত্তি: ওর অন্য একটা প্রস্তাব আছে। তাই বলেছি, এই দুই ম্যাচে না এলেই ভালো। তবে ব্রাজিলের দরজা সবসময় তার জন্য খোলা। ও চাইলে যে কোনো সময় যোগ দিতে পারবে।

 

প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন—আপনার ব্রাজিল কেমন খেলবে?

আনচেলত্তি: একক ছাঁদের ফুটবল আমার পছন্দ নয়। দল যা পারবে, তার ওপর নির্ভর করে পরিকল্পনা। আমি চাই, দল মাঠে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলুক। খেলার সৌন্দর্য ফিরুক ব্রাজিলের ফুটবলে। কারণ ওটাই তো এ দেশের পরিচয়।