দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বাংলাদেশ, মুশতাকের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ১০:৪৯ এএম

লাহোরে সিরিজের প্রথম টি–টোয়েন্টিতে ৩৭ রানে হেরে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলটি এখন তাকিয়ে শুক্রবারের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর দিকে। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দল হিসেবে আরও সংগঠিত ও কার্যকর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের ইতিবাচক ক্রিকেটের প্রশংসা করলেও, বাংলাদেশের উন্নতির পথও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। 

মুশতাক বলেন, 'প্রথমেই পাকিস্তান দলকে কৃতিত্ব দিতে হয়—ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে। তবে আমাদেরও নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখি।'

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনারদের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার নিচে। রিশাদ হোসেন ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—যেখানে পাকিস্তানের হয়ে শাদাব খান বল ও ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেও রিশাদ ছিলেন বিবর্ণ। তবে তরুণ লেগস্পিনারকে ঘিরে আশাবাদী মুশতাক, 'ও একজন ম্যাচ–উইনার। আমি আশা করি, ও শিখবে—বিশেষ করে ফিল্ড সেটআপ আর ব্যাটসম্যানদের পড়তে শেখা জরুরি। সামনের দিনগুলোয় রিশাদ বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।'

অন্যদিকে, শামীম হোসেনের বোলিংয়ে খুশি মুশতাক। বললেন, 'শামীম খুব ভালো বোলিং করেছে, আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েও এনেছিল। আমি ওকে এই প্রথম বল করতে দেখলাম, খুবই মুগ্ধ হয়েছি। ও হতে পারে দলের জন্য কার্যকর একটি ষষ্ঠ বোলিং অপশন—এটা একটি ইতিবাচক দিক।'

শুধু পারফরম্যান্স নয়, মুশতাক স্পিনারদের মানসিকতা ও কৌশলের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। 'সাদা বলের ক্রিকেটে উইকেট নিতে হবে ভাবনা নিয়ে নামতে হয়। দুইটা ছক্কা খেলেও যদি মিডল ওভারে দুই-তিনটা উইকেট নিতে পারো, পুরো ম্যাচ বদলে যায়। ফিল্ডিং পজিশন, উইকেট বুঝে বল করা, বৈচিত্র্য—সবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় বলি, শুধু বল দিয়ে নয়, ফিল্ডার দিয়েও আক্রমণ করতে হবে।'

ব্যাটিং নিয়ে মুশতাকের উদ্বেগ মূলত মাঝের ওভারগুলো ঘিরে। একটি ভালো শুরুর পরও বাংলাদেশের ইনিংস ভেঙে পড়ে রান রেটের চাপ সামলাতে না পেরে। '২০০ তাড়া করতে গেলে রান রেট ১৩-এর ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না। একটা উইকেট পড়লে পরের ব্যাটারকে সঙ্গে সঙ্গেই বড় শট খেলতে হয়, যা কঠিন। আজ আমরা কৌশলগত দিক থেকে একটু পিছিয়ে পড়েছি,' বলেন মুশতাক।

তাওহীদ হৃদয়ের ব্যর্থতা নিয়েও মুখ খুলেছেন কোচ, তবে ভরসা রেখেছেন তরুণ ব্যাটারের ওপর। 'ও একজন ভালো খেলোয়াড়, আগেও ম্যাচ জিতিয়েছে। আজ হয়তো সেই ছন্দটা পায়নি। তবে এ ধরনের উইকেটে ওর কী কী অপশন কাজে লাগানো উচিত, সেটা শিখে যাবে।'

তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতিও অনুভব করেছে দল। যদিও সেটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি নন মুশতাক। 'শরিফুল ভালো শুরু এনে দিয়েছিল, আমরা দ্রুত দুই উইকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটারদের মানসিকতা ছিল দুর্দান্ত। বিশেষ করে আগা সালমান দারুণ ক্রিকেটিং শট খেলেছে, সেটাই পার্থক্য গড়ে দেয়।'

মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে কঠিন পরীক্ষা। তবে মুশতাক আহমেদের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। 'পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। আমাদের শুধু কৌশলগত দিক থেকে একটু বেশি পরিণত হতে হবে, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, আর লড়াইটা দেখাতে হবে। এই দলটা সেটা পারবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত