মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা: অকেজো জেনারেটর, উদাসীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। পুরো উপজেলার সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। লোডশেডিং হলে সেবা নিতে আসা রোগী, চিকিৎসক এবং নার্সদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। 

বিশেষ করে রাতের বেলা বিদ্যুৎ চলে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ চালাতে হয় মোমবাতির আলোয়। যা চিকিৎসা সেবার মান ও রোগী নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফরিদ মিয়ার মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টের কবলে পড়া ছেলে নাজমুল হাসানকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তিনি জানান, হাসপাতালে এসে দেখি পুরোপুরি অন্ধকার। কেউ একজন মোমবাতি জ্বালিয়ে ডাক্তারকে দেন। সেই আলোতেই আমার ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়া  হয়। এটা কোন ধরনের চিকিৎসা? 

এসময়  হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা সহকারী মেডিকেল অফিসার সাগর চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা অন্ধকারে পড়ে যাই। জেনারেটর থাকলেও অচল হয়ে পড়ে আছে। মোমবাতির আলোতে ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে আমাদের অসুবিধা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় ছোটখাটো জরুরি চিকিৎসাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। চোখে-মুখে আলো না পড়ে অনেক সময় রোগ নির্ণয় করাই কঠিন হয়ে যায়। নানা অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্যে ব্যাহত হচ্ছে সেবা। কিন্তু এসব নিয়ে টনক নড়ছে না কারও। উদাসীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজেই। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে নিয়মবহির্ভূত নাদিম নামে একজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এসিস্ট্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার একমাত্র  স্বাস্থ্যসেবা কমপ্লেক্স হয়েও রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। 

এ ব্যাপারে  জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুনের মোবাইল নম্বরে বারবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাকে কখনওই পাওয়া যায় না কল করে। এ প্রসঙ্গে জানতে হাসপাতালের আরএমও সুমাইয়া হোসেন লিয়াকেও একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। 

এই বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সিরিয়াসলি কথা বলে বিষয়টি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।