স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) যোগ দিচ্ছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ বিকেলে তিনি বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা রয়েছে তার। অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে তাকে বোর্ডে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে নির্বাচনের পর আর এই পদে থাকার কোনো আগ্রহ নেই তার।
বৃহস্পতিবার ক্রিকবাজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেন, 'আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা এবং দেশের জন্য সেরা ক্রিকেট বোর্ড গঠন নিশ্চিত করা। এই দায়িত্ব পালনের পর আমি আর নির্বাচনে অংশ নিতে চাই না।'
ফারুক আহমেদকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিসিবির সর্বোচ্চ পদে বসতে পারেন আমিনুল—এমন গুঞ্জন জোরালো। তবে তিনি বলছেন, 'সরকার থেকে আমাকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। আমি রাজি হয়েছি। এখন শুধু প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগোনো বাকি।'
অধিনায়কত্বের গর্বিত অধ্যায় পেছনে রেখে দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত আমিনুল যোগ করেন, 'আমি সবসময় ক্রিকেটের উন্নয়নেই যুক্ত ছিলাম। এই প্রথম আমাকে এমন একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি ‘না’ বলিনি। বিষয়টা এতটাই সরল।'
তিনি আরও বলেন, 'দায়িত্ব যখন এসেছে, কাজ করবো। আপাতত আমার লক্ষ্য নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা। এরপর আমাকে নতুন কোনো কাজ দেওয়া হবে কিনা জানি না। আবার আইসিসিতে ফিরে যাব কিনা, তাও বলা কঠিন। তবে এই মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বা দীর্ঘমেয়াদে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই।'
নিজের দায়িত্ব ও অবস্থান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি আশাবাদী, 'আমি বোর্ডের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নই। যদি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমাকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করে এবং আমি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাই, তাহলে সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি বোর্ড পরিচালকদের উপরই নির্ভর করবে।'
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত বুলবুল জানালেন, বিসিবিতে যোগ দেওয়ার আগে আইসিসির সঙ্গে আলাপ করে নিয়েছেন অনির্দিষ্টকালের ছুটি। 'আইসিসি আমাকে বলেছে, তুমি স্বাধীন। বাংলাদেশে গিয়ে যতদিন খুশি কাজ করো। ফিরে আসতে চাইলে দরজা খোলা থাকবে। আমি তাদের এই অনুমতির জন্য কৃতজ্ঞ।'
বিসিবির নেতৃত্বে আসতে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাই বড় সম্পদ। তবে আইসিসিতে চাকরির কারণে নতুন দায়িত্ব পালনে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল ক্রীড়াঙ্গনে। সেই সংশয় এবার কাটিয়ে দিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেই। জানালেন, আইসিসির চাকরি তিনি ছেড়েই এসেছেন দেশের ক্রিকেটকে সময় দিতে।
দীর্ঘদিন আইসিসির ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা বুলবুল বললেন, 'একসময় আমার চাকরিটা ছিল পারমানেন্ট। পরে আমি নিজেই চুক্তিভিত্তিক হয়ে যাই। সুবিধাটা ছিল বেতন ও সুযোগ-সুবিধা একটু বেশি পাওয়া যেত। জুনেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমি নবায়নের আবেদন করিনি। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি বলেই চুক্তি আর বাড়াচ্ছি না।'
এত বড় পদে বসে আবার পুরোনো চাকরিতে ফেরা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বলেও অনেকের আশঙ্কা। তবে বুলবুল এই বিষয়েও সোজাসাপ্টা, 'আমি কাজকে কাজ হিসেবেই দেখি। আইসিসির কাজেও ক্রিকেট উন্নয়ন ছিল, বিসিবিতেও তাই থাকবে। পদ আলাদা, লক্ষ্য একই। কমপ্লেক্স নয়, দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।'
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়া আমিনুল ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে দেশের প্রথম টেস্টে ১৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে লিখিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই ব্যাটার খেলেছেন ১৩টি টেস্ট ও ৩৯টি ওয়ানডে। অবসরের পর কোচ, ম্যাচ রেফারি এবং পরবর্তীতে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এএসিসি) ও আইসিসিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ভূমিকায় কাজ করেছেন।
আমাকে জোরপূর্বক পদচ্যুত করা হয়েছে, তা এরই মধ্যে আইসিসিকে জানিয়েছি: ফারুক
ব্রাজিলকে বিশ্বের সেরা জাতীয় দল বললেন আনচেলত্তি