বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত

‘অর্থনীতি শিক্ষা, দেশ গড়ার দীক্ষা’ এই প্রতিপাদ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড-২০২৫ এর চট্টগ্রামের জাতীয় পর্ব। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অলিম্পিয়াডে চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে অনলাইনে আঞ্চলিক বাছাই পর্ব শেষে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হয় এই পর্বটি।

বৃষ্টিমুখর সকালে চট্টগ্রাম কলেজে সকাল ৮টায় শুরু হয় অলিম্পিয়াড পর্ব। এতে অংশ নেন ৩০০ শিক্ষার্থী। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে এসে পৌঁছাতে পারেনি অসংখ্য শিক্ষার্থী। এই ৩০০ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, এই দুই ভাগে আলাদা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। অলিম্পিয়াড শেষে আয়োজিত হয় ‘বক্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্ব’।

এই পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ক এ ধরণের অনুষ্ঠানকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণকে বিশ্ব অর্থনীতির বিশেষ অবদানস্বরূপ তরুণ প্রজন্মকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তরুণ প্রজন্ম অর্থনীতি নিয়ে ভাবলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, অলিম্পিয়াড হলো তাত্ত্বিক পড়াশোনা আর বাস্তবিক প্রয়োগের মাঝে যোগসূত্র তৈরিকারী। অলিম্পিয়াড এ যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের জীবনবোধ ও বাস্তবিক জ্ঞান অন্যদের চেয়ে ভালো হয়। এই অলিম্পিয়াড আরও সমৃদ্ধ হোক।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের চেয়ারম্যান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড নিছক এনজিও কাজ কিংবা ইভেন্ট নয়। এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। একটি সুগঠিত জাতি গঠন করতে হলে নাগরিকদের অর্থনৈতিকবোধ প্রগাঢ় হওয়া বাধ্যতামূলক। ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড দেশজুড়ে সেই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। তিনি চট্টগ্রামের মানুষদেরকে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে আরও বেশি সহায়ক ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

সেন্টার ফর ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ (সিওয়াইএ) এর আয়োজনে এই অলিম্পিয়াড এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডের ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মোহাম্মদ মনসুরুল হক, শিক্ষাবিদ প্রফেসর এম সিকান্দার খান, চট্টগ্রাম এর অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (শিক্ষা) মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াড কার্যকরী কমিটির সভাপতি আল আমিন পারভেজ, সেন্টার ফর ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ এর প্রতিষ্ঠাতা সাইদ খান সাগর, চট্টগ্রাম ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড এর সমন্বয়ক কাজী সদরুল্লাহ রাকিব।

অলিম্পিয়াড এ স্কুল-কলেজ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকার মাস্টারমাইন্ড স্কুলের সুহা আহসান, দ্বিতীয় হন গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তানভীর ইসলাম, তৃতীয় হন প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মিসবা জাকারিয়া। 

বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগে প্রথম হন চবির এ এম আবির হাসান, দ্বিতীয় হন চবির জোনায়েদ সামী, তৃতীয় হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাতিন ইলহাম। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বিজয়ীরা ন্যাশনাল ক্যাম্প এ অংশ নিবেন, সেখান থেকে নির্বাচিতরা যাবেন আজারবাইজান এর বাকুতে ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে।