বেলুচিস্তানের সোরাব শহরে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব) হিদায়েতুল্লাহ বুলেদি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়িতে চালানো এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রাদেশিক সরকার। খবর: ডন।
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার ‘দুষ্কৃতিমূলক অপচেষ্টা’। তাঁর ভাষায়, “একটি ব্যাংকে ডাকাতির পাশাপাশি একাধিক সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে হামলা হয়। এর মধ্যে হিদায়েতুল্লাহ বুলেদি নিজের বাসভবন রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে শহীদ হন।”
রিন্দ জানান, হামলার সময় বুলেদির বাড়িতে নারী ও শিশুরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে বুলেদি সাহসিকতার এক নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।”
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টিয়ার কোর এবং লেভিস সদস্যরা।
শহীদ রিন্দ বলেন, “রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” একই সঙ্গে তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে সোরাবের পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে পাকিস্তনের সংবাদমাধ্যম ডন।
উল্লেখ্য, বেলুচিস্তানে গত কয়েক মাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দীর্ঘদিনের নিম্নমাত্রার বিদ্রোহে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন হামলার মাত্রা ও ভয়াবহতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি নতুন কৌশলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চে বেলুচিস্তানের সিবি এলাকায় জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৬ জন জিম্মি নিহত হন, যাঁদের ১৮ জনই ছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। পরবর্তী অভিযানে আরও পাঁচ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান।
তবে এপ্রিল ২০২৫-এ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) তথ্য অনুযায়ী, মার্চের তুলনায় ওই মাসে সন্ত্রাসী হামলা ও এতে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ‘গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স ২০২৫’-এর তালিকায় পাকিস্তান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। গত এক বছরে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮১ জনের, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি।