ক্ষমতার অপব্যবহার যিনি করেন না, তাকে নেতা নির্বাচন করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা এনসিপি আপনাদের কথা শুনতে ও বলতে এসেছি, ভোট চাইতে নয়। আপনাদের এলাকায় যারা ভালো কাজ করেন, গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব আছে, চাঁদাবাজি বা সিন্ডিকেট করেন না, ক্ষমতার অপব্যবহার করেন না, সেই ব্যক্তিকে, যে দলেরই হোক, নেতা হিসেবে নির্বাচন করুন।’ গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চারমাথা মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রশাসনের প্রতি তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, যার ফলে এর ইমেজ সংকটে পড়েছে। ক্ষমতার দালালি করা কর্মকর্তারা পরে লজ্জিত হয়েছেন, তাদের পরিবারও জনসমক্ষে অস্বস্তিতে পড়েছে। তোষামোদি পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শপথ অনুযায়ী দেশের স্বার্থে কাজ করলে আত্মপ্রশান্তি ও পূর্ণতা পাওয়া যায়।’

গণমাধ্যম সংস্কার প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের তিনটি প্রধান দায়িত্ব বিচার, সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন। গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে গণমাধ্যম সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে হলুদ সাংবাদিকতার কারণে নিরপরাধ মানুষ বিপদে পড়েছে এবং কিছু ন্যারেটিভ দিয়ে হত্যাকে জায়েজ করা হয়েছে।’

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন-ভাতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিকদের রাজনৈতিক সংবাদ কাভার করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাবতে হলে দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির খবর প্রকাশে ভীতি কাজ করবে।’

উত্তরবঙ্গের কৃষি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কৃষকরা সিন্ডিকেটের কারণে জিম্মি। পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাবে কৃষক ভোগান্তিতে পড়েন। উত্তরবঙ্গে সবুজ শিল্প ও কৃষি শিল্পায়নের জন্য একটি মডেল তৈরি করা প্রয়োজন, যা আগামী নির্বাচিত সরকারের এজেন্ডা হতে পারে। এনসিপি এ বিষয়ে কাজ করবে।’

সারজিস আরও বলেন, ‘রংপুর থেকে রাজধানী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ৮-১০ বছর লাগে, তবু কাজ অসম্পূর্ণ। এটাই উত্তরাঞ্চলের বাস্তবতা। বড় দলের নেতারা নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত থাকায় উন্নয়ন ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করলে গোবিন্দগঞ্জ ও গাইবান্ধা এগিয়ে যাবে।’

গতকাল দিনব্যাপী সারজিস আলম গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। তিনি গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটার বোনারপাড়া, ফুলছড়ির কালিরবাজার, গাইবান্ধা পৌরপার্ক, পলাশবাড়ীর শহীদ মিনার, সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট শহীদ মিনার এবং সুন্দরগঞ্জের স্বাধীনতা চত্বরে বক্তব্য রাখেন।