সাগরে মানব পাচারকারীর জাল

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফের হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম (১১) ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাহাদ উদ্দিন (১২) দুইজনই উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। গেল ৫ মার্চ সন্ধ্যায় ওই দুই বন্ধু বাড়ির জন্য ইফতার আনতে যায়। কিন্তু পথিমধ্যেই তাদেরকে জোর করে ধরে তুলে দেওয়া হয় মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে। সন্তানদের সন্ধান না পেয়ে টেকনাফ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ওই দুই শিশুর পরিবার। তবে নিখোঁজের সপ্তাহ খানেক পর থাইল্যান্ডের একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয় নিখোঁজ পরিবারের সঙ্গে। দাবি করা হয় জনপ্রতি ৪ লাখ টাকা করে দিলেই মিলবে মুক্তি। সোনা ও জমি বিক্রি করে দুই শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্ত করে আনে ভুক্তভোগী পরিবার। এই রকম প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে টেকনাফসহ আশপাশ এলাকায়। এতে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক।

এই বিষয়ে অপহৃত আশরাফুলের মা সমজিদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ছেলে ও সাহাদউদ্দিনকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে মিনি টমটমে করে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে তুলে দেয় এলাকার চিহ্নিত  মানব পাচারকারী আব্দুস সালামের ছেলে সৈয়দ আমিন ও কবির আহমদ প্রকাশ কবির চকিদারের ছেলে শহীদ উল্লাহ। পরে তাদের মুক্তিপণ দিয়েই সন্তানদের মুক্ত করা হয়। অপহরণের বিষয়ে শাহপরীর দ্বীপ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই সনজিত বলেন, টেকনাফের দুই স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী অপহরণের বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার আগে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং দক্ষিণ পাড়ার আব্দুর রহমানের পুত্র মুফিজ প্রকাশ পাগলা মুফিজ, উনচিপ্রাং এলাকার শামসুল আলমের ছেলে রিদুয়ান, মৃত মোক্তার আহমদের ছেলে রাসেল, মুহাম্মদ হোসেনের ছেলে দেলোয়ারসহ তিন কিশোরকে এনজিও প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে তুলে দেয় পাচারকারীরা। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ মেলেনি।

ভুক্তভোগী রিদওয়ান ও রাসেলের মা আজিজা, আমেনা বলেন, রইক্ষ্যং এলাকার মৃত মুহাম্মদ হোছেনের ছেলে আবুল কালাম, সামশুল আলমের ছেলে ইবরাহীম, ছৈয়দ হোছাইন মিন্টুর স্ত্রী রেহেনা আক্তার, মৃত কালাম হোছাইনের ছেলে নুর হোছাইন, মৃত নজুম উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন ও জিয়া উদ্দিন বাবুল, নুরুল হকের ছেলে নুর মুহাম্মদ, মৃত শফি আহমদের ছেলে আব্দুল হামিদসহ আরও কয়েকজন মিলে এলাকায় একটি পাচারকারী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এনজিওর প্রশিক্ষণ, চাকরির প্রলোভনসহ নানা লোভ দেখিয়ে চক্রের সদস্যরা শিশু-কিশোর এমনকি প্রতিবন্ধীদের পর্যন্ত পাচার করে দিচ্ছে। দালালচক্র মিলে কিশোরদের পাচার করে দেয়। পরে মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু মুক্তিপণ নিয়েও তারা ভুক্তভোগীদের ছাড় দিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমার দুই ছেলেকে ছাড়তে আমি তাদেরকে ৬ লাখ টাকা দিয়েছি। এরপর তারা আমার ছেলেদের মুক্তি না দেওয়ায় আমি প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় অভিযোগ করি। পরে অভিযুক্ত আটজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার  মানব পাচার দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। এ ছাড়া একই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ হোসেন নামের আরেকজনও মামলা করেছেন। তবে এখনো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

এই বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার এসআই মো. কামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত একটি  মানব পাচার মামলার তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফজুড়েই বেপরোয়া পাচারকারীরা : সাবরাং কিংবা হোয়াইক্যং নয়, টেকনাফজুড়েই বেপেরোয়া হয়ে উঠেছে  মানব পাচারকারীরা। তাদের হাত থেকে শিশু কিশোর, নারী পুরুষ, প্রতিবন্ধী কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। মুক্তিপণের লোভে পাচারকারীরা হয়ে উঠেছে দুর্র্ধর্ষ। প্রতিবছর শীত মৌসুমে সাগর পথে পাচারের ঘটনা ঘটলেও শীত শুরুর আগেই উপকূলে সক্রিয় হয়েছে  মানব পাচারকারীরা। নারী-শিশুসহ স্থানীয় লোকজনকে পাচারের জন্য তুলে নিয়ে জড়ো করা হচ্ছে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড় ও সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল, খুরের মুখ, কাটাবুনিয়া পাচারকারীদের গোপন আস্তানায়। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে তুলে দেওয়া হচ্ছে ট্রলারে। গত কয়েক মাসে বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ও বাহারছড়ার পাহাড়ে পাচারকারীদের আস্তানায় পৃথক অভিযান চালিয়ে শতাধিক মালয়েশিয়াগামী নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে। কিন্তু তবুও কমছে না পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য। উল্টো বেপেরোয়া রূপ ধারণ করে উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে ছোট ট্রলারে তুলে দেওয়া হচ্ছে শত শত নারী পুরুষ ও শিশুদের। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সাগরে : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল ১১ ফেব্রুয়ারি সেন্টমার্টিনের কাছে ডুবে যাওয়া মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার থেকে ১৩৮ জন যাত্রীর মধ্যে ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। ৪৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ওই ঘটনায় ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবুও থামেনি পাচার। উল্টো গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে ৯ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে ফেরত আনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ১২ এপিল তাদের কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

অপহৃতদের ভয়ংকর তথ্য : এই বিষয়ে ফেরত আসা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৪ এপ্রিল আমাকে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাজারছড়া এলাকার একটি পাহাড়ে বন্দি করে রাখা হয়, যেখানে আরও ৫০ থেকে ৬০ জন ছিল। গভীর রাতে আমাদের একটি কার্গোবোটে তোলা হয়। সেখানে গিয়ে দেখি ক্যাম্পের পরিচিত কয়েকজনসহ প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ গাদাগাদি করে বসে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘টানা আট দিন সাগরে চলার পর গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছাই। এ সময় মাঝি ও তার লোকজনের সঙ্গে যাত্রীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সবাইকে জিম্মি করে বোটের বরফঘরে ঢুকিয়ে রাখা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই বোটটি ডুবে যায়। তখন আমি ও আরও কয়েকজন পানির বোতল ও তেলের ট্যাংকি ধরে দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকি। পরে ১১ এপ্রিল একটি বাংলাদেশি জাহাজ আমাদের উদ্ধার করে।’ টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার ফেরত আসা সোহান উদ্দিনের বাবা শামসুর আলম বলেন, ‘এলাকার এক বন্ধু এনায়েত খেলার কথা বলে আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর সে নিখোঁজ ছিল। পরে জানতে পারি, দালালের কাছে বিক্রি করে তাকে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, ‘সাগর থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় আনা হয় এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায়  মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেছে। এই বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে থানায় আনা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভিকটিমদের আদালতে পাঠানো হয়।

রাতে বেড়েছে গাড়ির আনাগোনা : রাত গভীর হলেই টেকনাফ-উখিয়া সড়কে সন্দেহজনক গাড়ির আনাগোনা বেড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে এসব গাড়িতে চলে  মানব পাচার। নারী ও শিশুরাই প্রধান টার্গেট। নীরবে পাচারকারীরা সাগরপথে  মানব পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবির থেকে পাচার হওয়া মেয়েদের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় যৌনকর্মীতে। ছেলেশিশুদের বাধ্য করা হয় বিভিন্ন শ্রমে।

ক্যাম্পে পাচারকারীরা সক্রিয় : গত কয়েক দিনে আটক মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. ওসমান, আবদুল গফুর ও সাইফুল  মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। এ ছাড়া উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা  মানব পাচারকারী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ এসেছে। অভিযুক্তরা হলেন হাফেজ ছলিম, আতাত উদ্দিন, মোহাম্মদ আলম, আবদুর করিম, হাফেজ মোহাম্মদ আইয়ুব, আবদুল করিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ কবির, আমির হোসেন, মোহাম্মদ ফয়েজ, নূর হোছন, মোহাম্মদ নাগু, নুরুল কবির, আবুল কালাম, লাল বেলাল, দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ ফারুক, জোবাইর হোসেন, লালু মাঝি, আলী আকবর, ইমাম হোসেন ও শুক্কুর। মোহাম্মদ ছলিম, লম্বা কবির, মোহাম্মদ শাহর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও এলাকায় তারা পাচারে তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

পুরনো পথেই পাচার : ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করেন। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়া বাংলাদেশিদের অনেকেই ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মারা যান পথেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওই ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে। বেশিরভাগই টেকনাফ উপকূলের কাটাবনিয়া-কচুবনিয়া ও নোয়াখালীয়া পাড়াঘাট দিয়ে মালয়েশিয়ায় যেত। ওই সময় স্থানীয়দের কাছে ওই এলাকা ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। পরে আন্তর্জাতিক চাপে  মানব পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অভিযানে নামে এবং জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে। এতে সাগরপথে  মানব পাচার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে এই রুটেই আবারও  মানব পাচার বেড়েছে।

পাচারের পয়েন্ট : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ও সাবরাং ইউনিয়নের উপকূল দিয়ে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিকে পাচার করেছে দালালরা। এখানে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় বেশ কিছু দালাল এই কাজে জড়িত। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেনেও নীরব বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার এপিবিএনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ সমুদপথে মালয়েশিয়ায় গেছে বলে জেনেছি। কয়েকটি ক্যাম্পের মাঝিরা বলেছেন, আরেকটি গ্রুপ মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের পাচাররোধে কাজ শুরু করেছি আমরা। মেরিন ড্রাইভ উপকূলে নজর রাখা হচ্ছে। দালালদের পেলেই ধরা হবে।’

সমুদ্রের যেসব পয়েন্ট দিয়ে পাচার করা হয় : বেশিরভাগ দিন-রাতের আঁধারে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া, তুলাতলী, লম্বরী, রাজারছড়া, মিঠাপানির ছড়া, বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, মাথাভাঙা, শামলাপুর, ও সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল, খুরের মুখ, কাটাবুনিয়া, কচুবনিয়া পয়েন্ট দিয়ে  মানব পাচার চলছে। সমুদ্রের এসব ঘাট দিয়ে টেকনাফের আবদুল আলী, মো. সাইফুল, মো. রেদোয়ান, কেফায়েত উল্লাহ, সৈয়দুল্লাহ মাঝি, শাকের মাঝি, দিলদার মিয়া, মো. ইলিয়াছ ও মো. জুবায়ের রোহিঙ্গা নাগরিকদের পাশাপাশি স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করছেন। এরই মধ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাচারের ঘটনা ঘটছে। গত ৯ এপ্রিল এক যুবকের তিন টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে আসে আতঙ্ক। এই এলাকার এক মেম্বার ইলিয়াস জানিয়েছেন, নোয়াখালী পাড়া ঘাটে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় যুবকদের রাতে জড়ো করা হয়। পরে ছোট নৌকায় করে বঙ্গোপসাগরের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সমুদ্রের মধ্যেই তাদের মালয়েশিয়াগামী বোটে তুলে দেওয়া হয়। এই কাজে প্রত্যেক রোহিঙ্গার কাছ থেকে থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।

অভিযানের পরও পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কমেনি উল্লেখ করে টেকনাফ উপজেলা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই মৌসুম কম দুর্যোগপ্রবণ বলে পাচারকারীরা প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই এ সময়ই রোহিঙ্গারা সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাত্রা করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘যাদের আত্মীয়স্বজন বিভিন্নভাবে মালয়েশিয়া গেছেন, তাদের মধ্যেই সে দেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। অনিশ্চিত জীবন থেকে মুক্তির আশায় সেখানে পালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিচ্ছেন। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পাচারকারীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত