১৩০ টাকায় স্বপ্নের জয় দেলোয়ারের

একজন বাবা সারাজীবন কাজ করেছেন থানা প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টিকে ছিলেন কঠিন জীবনসংগ্রামে। সেই থানারই আঙিনায় প্রতিদিন যাতায়াত ছিল তার ছেলের। ছোটবেলা থেকেই বাবার পরিচিত  ইউনিফর্মধারীদের দেখে তার চোখেও জন্ম নেয় স্বপ্ন- একদিন তিনিও পুলিশের পোশাক পরবেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব। আর এ স্বপ্ন পূরণে খরচ হয়েছে মাত্র ১৩০ টাকা! কোনো তদবির নয়, কোনো ঘুষ নয়- শুধু নিজের মেধা, অধ্যবসায় আর অবিচল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে দেলোয়ার হোসেন আজ কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে মৌলভীবাজার জেলার ১৯ জন প্রার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। তাদের একজন দেলোয়ার।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গোমড়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন পুলিশ লাইন্সের সীমানা ঘেঁষে তার বেড়ে ওঠা। বাবা রিপন মিয়া সদর মডেল থানায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। পরিবারে চার ভাইবোনের মধ্যে দেলোয়ার সবার বড়। অভাবের সংসারে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না, তবু স্বপ্ন দেখেছিলেন পুলিশ হওয়ার।

দেলোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই থানায় পুলিশদের আসা-যাওয়া দেখেছি। তাদের মতোই হতে চেয়েছি। গতবারও কনস্টেবল পদের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম, কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হই। এবার আগে থেকেই পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নেই। আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি। নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

দেলোয়ারের বাবা রিপন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি সবসময় ভাবতাম, ছেলেটা একদিন পুলিশের পোশাক পরবে। তবে ভয়ও লাগত- কারণ শুনতাম, পুলিশের চাকরি পেতে হলে লাখ লাখ টাকা লাগে। আমি গরিব মানুষ, কীভাবে দিতাম সেই টাকা? আল্লাহর রহমতে ছেলে নিজে নিজে চাকরি পাইছে, মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করছে। আমি কাউকে এক টাকাও দেই নাই। এখন ওই লাখ টাকার চাকরীর কথাটা রূপকথা মনে হয়। তিনি বলেন, ছেলের সাফল্যে আমি কৃতজ্ঞ আল্লাহর কাছে। আমার একটাই চাওয়া- সে যেন সৎ পুলিশ হয়, মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ও নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা একেবারেই নিরপেক্ষভাবে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছি। কেউ তদবির বা ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ পায়নি। যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তারা সবাই কঠোর পরিশ্রম করে, নিজ যোগ্যতায় এই অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর জানতে পারি সদর থানার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রিপন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার চাকরি পেয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ বার্তা- আমরা সত্যিই স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছি। আজ যারা কনস্টেবল পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই সাধারণ ঘরের সন্তান। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের প্রক্রিয়া দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।