ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে নওগাঁয় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগরম বিভিন্ন পশুর হাটগুলো। ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। এবারও বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি।
তবে অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসন থেকে বেধে দেওয়া নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো হাসিল আদায় করা হচ্ছে। আজ শনিবার নওগাঁর রানীনগরের ত্রি-মোহনী গরুর হাটে এ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে রানীনগরের ত্রি-মোহনী হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে উঠেছে হাট। বড় গরুর চাইতে মাঝারি গরুর চাহিদা অনেক বেশি। তবে জেলা প্রশাসন থেকে নির্ধারিত করা গরুর হাসিল ৭০০ টাকা হলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে বিক্রেতাদের কাছে কোনো টাকার নিয়ম না থাকলেও ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিচ্ছেন ইজারাদাররা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ বছর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেশীয়, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাত লাখ ৮৮ হাজার ৩২০টি গবাদিপশু লালনপালন করা হয়েছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে প্রায় তিন লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৭টি পশু। এসব গরু বেচাকেনার জন্য জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় ৩৬টি হাট বসানো হয়েছে। এছাড়াও বাড়তি পশু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন।
আত্রাই উপজেলা থেকে আফাজ উদ্দিন নামের এক ক্রেতা এসেছেন গরু কিনতে। ৮৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি গাভী গরু কিনেছেন। ইজারাদার তার কাছ থেকে হাসিল বাবদ ৭৫০ টাকা নিয়েছেন। আগে ৫০০ টাকা খাজনা দিয়ে গরু কেনা যেত কিন্তু সরকারের বেধে দেওয়া হাসিলের চাইতে ৫০ টাকা বেশি নেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম নামের এক বিক্রেতা বলেন, এ বছর সরকার যেটা বেধে দিয়েছে সেটা অনেক টাকা। কিন্তু ইজারাদাররা সেটা থেকেও লোক দেখে বেশি টাকা নিচ্ছেন। হাটে নজরদারি না থাকায় বেশি হাসিল আদায় করা হচ্ছে।
বিক্রেতা মইনুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে ৫০ টাকা নিয়েছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া যুক্তিসঙ্গত না। হাটে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই দেখে এভাবে ইজারাদাররা সবার কাছে বেশি টাকা নিচ্ছেন।
এদিকে হাটের খাজনা আদায়কারীদের জানতে চাইলে হাট ইজারাদারের নাম প্রকাশ করেনি।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা নেওয়া যাবে না। তবে যদি কোনো ইজারাদার বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেয় এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক হাসিল আদায় করে তাহলে আমরা সেটির ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আগামী হাটগুলোতে আমরা নজরদারিতে রাখব।