সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচটি ১০ জুন বদলে যাওয়া জাতীয় স্টেডিয়ামে। তাই এ মাঠেই প্রস্তুতির শুরুটা করতে চেয়েছিলেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর হোম অব ফুটবলে দাপিয়ে বেড়ানোর ইচ্ছে ছিল খেলোয়াড়দেরও। তবে বাগড়া টানা ভারী বৃষ্টি। যার ফলে নির্ধারিত সময়ে দেড় ঘণ্টা আগে অনুশীলনের ভেন্যু বদলাতে হয়েছে। জামাল ভুঁইয়া, তপু বর্মণ, ফাহামিদুল ইসলামরা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্রথম দিনের প্রস্তুতি সেরেছেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে।
কিংস অ্যারেনা যে দেশের ফুটবলে একটা বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, তা আরেকবার প্রমাণিত হলো শনিবার। টানা বৃষ্টিতেও পানি জমে না বলেই জাতীয় স্টেডিয়াম ছেড়ে কাবরেরাকে শিষ্যদের নিয়ে আসতে হয়েছে চিরচেনা কিংস অ্যারেনায়। শুরুর দিনে ডাক পাওয়া ২৬ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২৪ ফুটবলার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হামজা চৌধুরী ২ জুন ঢাকায় আসবেন। আর কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম অভিষেকের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় পা রাখবেন ৪ জুন।
আলোচনার তুঙ্গে থাকা হামজা ও শমিত না থাকলেও ছিলেন ইতালি থেকে উড়ে আসা তরুণ ফাহামিদুল ইসলাম। কোচ যেন এই তরুণকে একটু আগলেই রাখতে চাচ্ছেন শুরু থেকেই। মিডিয়ায় সামনেই আসতে দিচ্ছেন না ইতালির চতুর্থ বিভাগে খেলা এই লেফট উইঙ্গারকে। তারপরও মাঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের চোখ ছিল ফাহামিদুলের দিকেই। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে শুরুতেই ট্রেনারের কাছে ঘাম ঝরালেন ফুটবলাররা। এরপর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুই প্রান্তে বেশ খানিকক্ষণ চলল পাসিং নিয়ে কাজ। এরপর অবশ্য প্র্যাকটিস দেখার সুযোগ ছিল সংবাদকর্মীদের।
জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম দিন অনুশীলন করতে না পারায় স্বভাবতই আফসোস হচ্ছে দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুনের, ‘অবশ্যই ছেলেরা রোমাঞ্চিত ছিল জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন হবে, ছেলেরাও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে... হুট করেই সিদ্ধান্ত বদলে এখানে (বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়) আসতে হলো।’
দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়াও প্রস্তুতির শুরুটা প্রিয় জাতীয় স্টেডিয়ামে করতে না পেরে একটু হতাশ, ‘জাতীয় স্টেডিয়ামেই অনুশীলন হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা এটাই জানতাম। দীর্ঘ চার বছর পর সেই স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস করার সুযোগ ছিল। তবে আবহাওয়ার ওপর তো কারও হাত নেই। বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। সে জন্য সূচি বদলে গেছে। ওখানে অনুশীলন করতে পারলে ভালো লাগত, কিন্তু এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’
মাঠের প্রস্তুতির শুরুর আগে অবশ্য হোটেলে শিষ্যদের নিয়ে বসেছিলেন হাভিয়ের কাবরেরা। টিম মিটিংয়ের এক ফাঁকে ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচের কিছু ফুটেজ দেখানো হয়। যেখানে তুলে ধরা হয় দলের ভুলত্রুটি। শুরুর দিনই কোচ শিষ্যদের একটা বার্তা দিয়েছেন বলে জানান হাসান আল মামুন, ‘হাভিয়ের যেটা করে, টিমে কার কী দায়িত্ব, আগে কে কী করেছে, কী করা যেত, এগুলোর সঙ্গে একটি অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দেয়। সবাইকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। সামনে আমরা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জিততে চাই, সব মিলিয়ে ফুটবল নিয়ে যে আবহ চারদিকে তৈরি হয়েছে, সেটা সবাইকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এই আবহটা এক দিক থেকে যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনই বাড়তি চাপও। ঘরের মাঠে হাজার হাজার দর্শকের সামনে নার্ভ ধরে রেখে নিজেদের সেরাটা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ ফুটবলারদের জন্য। রহমত যেমন বললেন, ‘প্রথমত এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ড শুরু হয়ে গেছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। যেহেতু একটা ম্যাচ চলে গেছে, আমাদের হাতে আর পাঁচটা ম্যাচ আছে। আমাদের যে সমর্থকরা আছেন, দর্শকরা আছেন, আমাদের যে সমর্থন তারা দিচ্ছেন, তাদের প্রত্যাশাও অনেক উঁচুতে, আমাদের একটা মিটিং হয়েছে, এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে। অতীতে মানুষের প্রত্যাশা আর এখনকার চাওয়াটা এক জায়গায় নেই। মানুষ, আরও প্রত্যাশা করছে, বেশি চাচ্ছে। আমাদের সবাই আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আরও ভালো কিছু করার, নিজের জায়গা থেকে যতটুকু মান উন্নত করার।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিট এর মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেদিন তিল ধারণের ঠাঁই থাকবে না গ্যালারিতে। এটা চাপ না অনুপ্রেরণা এমন প্রশ্নে রহমতের জবাব, ‘এটা দুই দিক থেকে কাজ করে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সমর্থকদের প্রত্যাশা যদি পূরণ করতে না পারি, তারা আশাহত হবে। যদি পূরণ করতে পারি, তারা আমাদের আরও বেশি সমর্থন করবে। দুটো দিকই আছে। আমরা ভয়ের দিক না দেখে আলোর দিক দেখি, চেষ্টা করে যাই, দেখা যাক কী হয়।’
রহমতের বলা শেষ কথাটা ফলে গেলে শুরুর দিনে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে না পারার আক্ষেপটা ঘুচে যাবে ১০ জুন সেই মাঠে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে।