সভাপতি হয়ে প্রথম সভায় যেসব উদ্যোগ নিলেন বুলবুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ষোড়শ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই যেন সক্রিয়তার ছাপ রাখলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা সাবেক এই অধিনায়ক বোর্ড সভাপতির চেয়ার সামলানোর পরদিনই হাজির হলেন বিসিবি কার্যালয়ে। দিনভর সভা-আলোচনা আর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন নতুন সভাপতি।

শনিবার দুপুরে প্রথম অফিস করতে এসে বিসিবির বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধানদের সঙ্গে দেখা করেন আমিনুল। এরপর যান জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে, যেখানে চলমান টেস্ট দলের ক্যাম্প ও ‘লিস্ট-এ আম্পায়ার্স ওয়ার্কশপ’ ঘুরে দেখেন।

তবে দিনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিকেলে বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে সভা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার এই সভার শুরুতেই নিজে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন দেন আমিনুল, যেখানে তিনি বোর্ডের সামগ্রিক উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণকেই সামনে রাখেন।

বোর্ড পরিচালক ইফতেখার রহমান সভা শেষে জানালেন, 'সভাপতি নিজেই যে প্রেজেন্টেশন দিলেন, এমনটা আমরা আগে দেখিনি। অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আলোকে তিনি চারটি কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন।'

চারটি নতুন কর্মসূচির নাম:

Protect the Spirit of the Game

High Performance for Everyone

Connect and Grow

Transparency and Good Governance in All Areas

প্রতিটি বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনা জানতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সকল পরিচালকদেরও প্রেজেন্টেশন দিতে বলেছনে আমিনুল।

বিকেন্দ্রীকরণের পথে বিসিবি, পাইলট প্রজেক্টে তিন অঞ্চল

বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা ক্রিকেট বিকেন্দ্রীকরণ এবার বাস্তব রূপ পাচ্ছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিসিবির আঞ্চলিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রাজশাহীর দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, আর ঢাকা-চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকছেন সালাহউদ্দিন চৌধুরী।

মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জানালেন, 'মিনি বিসিবি গঠনের মতো করে কাজ এগোবে। স্কুল ক্রিকেট, গেম ডেভেলপমেন্টের মতো কার্যক্রম কেন্দ্রীয় নয়, বরং স্থানীয়ভাবেই পরিচালিত হবে।'

বিপিএলের রাজস্ব হিসাব: লাভ শুধু কাগজে!

সভায় বিপিএলের আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সদ্য বিদায়ী সভাপতি ফারুক আহমেদ দাবি করেছিলেন, টিকিট বিক্রি থেকে ১৩ কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন।

বোর্ড পরিচালক ইফতেখার জানান, 'টিকিট বিক্রি থেকে মোট আয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৯০০ টাকা। তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও দলগুলোর সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির পর নেট লাভ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।'

তবে এটি পুরো বিপিএলের লাভ নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি, টিভি সম্প্রচার স্বত্ব ও অন্যান্য স্পন্সরশিপ বাবদ আরও ২১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বিসিবির। এই টাকা আদায় হলে বোর্ডের মোট লাভ হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

ইফতেখার বলেন, 'যদি ওই পাওনা আদায় না হয়, তাহলে এবারের বিপিএল অলাভজনক হিসেবেই গণ্য হবে। তবে আমরা আশাবাদী, অর্থ আদায় সম্ভব হবে।'

সভায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিসিবিতে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগ। মানবসম্পদ বিভাগ ঢেলে সাজাতে এইচআর কনসালট্যান্ট নিয়োগ। আম্পায়ারদের জন্য ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাইজেশন প্রোগ্রাম। বিসিএল পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নেওয়া। টবি লামসডেনের তত্ত্বাবধানে কিউরেটর কোর্স আয়োজন।

বোর্ড পরিচালনায় প্রথম দিনেই দৃঢ় পদক্ষেপ রেখেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। প্রেজেন্টেশন, পরিদর্শন, সভা ও পরিকল্পনায় স্পষ্ট তার ভিশন—সারা দেশে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়া, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় বিসিবিকে পরিচালিত করা।

দেশের ক্রিকেট ভক্তরা এখন অপেক্ষায়, নতুন সভাপতির ঘোষিত পরিকল্পনা মাঠে কতটা কার্যকর হয়।