মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কে গাছ ফেলে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ভাগরাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও পিকআপের চালক ও যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা রাস্তার পাশের গাছ কেটে সড়কে ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এরপর দেশীয় অস্ত্র হাতে মুখোশধারী ১৫-২০ জনের একটি ডাকাতদল টানা এক ঘণ্টা ধরে একের পর এক গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি চালায়। যাত্রী ও চালকদের মারধর করে তারা ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল।
পরে খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাতদল পালিয়ে যায়। পুলিশ সড়কে ফেলে রাখা গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। আহতদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ডাকাতদের হামলায় আহত অন্তত ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ওয়াজিদ মিয়া, অপু দাস, আরিফুল ইসলাম, মেরাজ মিয়া, সুমিত আলী, নিবাস পাল, সালেক মিয়া ও তাহমিদসহ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। ডাকাতরা তাদেরকে পিটিয়ে সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিস লুটে নেয়।
ভুক্তভোগী শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা ওয়াজিদ মিয়া ও অপু দাস বলেন, ‘আমরা কমলগঞ্জ থেকে প্রাইভেট কারে শ্রীমঙ্গলে ফিরছিলাম। ভাগরাবাড়ি এলাকায় পৌঁছাতেই ১৫-১৬ জনের একদল ডাকাত আমাদের ঘিরে ফেলে। আমাদের ওপর দা তুলে ধরে টাকা-পয়সা লুট করে নেয়।’
ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আরিফ বলেন, ‘ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক কামরুজ্জামান বলেন, ‘আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’