‘জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে ঐতিহাসিক অবসান হলো’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দলটির নিবন্ধন বৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ রবিবার এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষে মামলায় অংশ নেওয়া অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অবসান হলো। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণ হয়েছে— রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে (পিআইএল) করা মামলায় জামায়াতের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের মাধ্যমে দেশে একটি বহুদলীয়, গণতান্ত্রিক এবং অংশগ্রহণমূলক সংসদ গঠনের পথ সুগম হলো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি— এই রায়ের পর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত জাতীয় সংসদ গঠিত হবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বকে বেছে নেবেন।’

শিশির মনির আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী সংসদে আমরা গঠনমূলক ও গভীর বিতর্ক প্রত্যাশা করি, যা গণতন্ত্রকে স্থায়ী ভিত্তি দেবে।’

তিনি জানান, আদালত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মামলার শর্ট অর্ডারের জন্য আবেদন করেছি এবং আশা করছি আগামীকালকের (সোমবার) মধ্যেই সেই আদেশ হাতে পাব। এই শর্ট অর্ডার নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে যাব, যেখান থেকে নিবন্ধন ও প্রতীক বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করি।’

তিনি বলেন, ‘নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ সংক্রান্ত বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন আদালত। ফলে কমিশনকে দ্রুততম সময়ে উভয় বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগ বলেছেন, যদি নির্বাচন কমিশনের সামনে জামায়াত সম্পর্কিত অন্য কোনো বিষয় থাকে, সেগুলোকেও যেন কমিশন প্রকাশ করে এবং দ্রুত নিষ্পত্তি করে। এই ‘অন্য ইস্যু’ বলতে আমরা প্রতীকের বিষয়টিকেই বুঝি।’

তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘এটা বিচারিক রায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। অতএব রায়ের কপি পাওয়ার পর কমিশনের উচিত হবে আইন অনুযায়ী দ্রুত এই দু’টি বিষয়ে— নিবন্ধন ও প্রতীক— চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।’

শেষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘আদালতের এই রায় চূড়ান্ত এবং আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সময়মতো দেওয়া হবে।’