বিজয়ী বাবাকে চমকে দিতে ছোট্ট জানাকে নিয়ে গ্যালারিতে দর্শকরা

ছয় বছর আগে ভয়াবহ এক দুর্যোগ ঘনিয়ে এসেছিল লুইস এনরিকের জীবনে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছিল খ্যাতিমান এই কোচের ৯ বছর বয়সী কন্যা জানা। ২০১৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের রাতে বাবার সঙ্গে জানা কতই না আনন্দ করেছিল। এবার পিএসজির হয়ে আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের রাতেরও সাক্ষী হলো জানা, দর্শকদের ভালোবাসায় সেও রইল মাঠে।

গতকাল রাতে মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে এনরিকে বলেছিলেন, ‘এখনো মনে পড়ে বার্লিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের পর তার সঙ্গে তোলা এক দুর্দান্ত ছবির কথা—জয়ের পর সে মাঠে বার্সেলোনার পতাকা ওড়াচ্ছিল। এবার আমি আশা করি, পিএসজির হয়েও একই কাজ করতে পারব। আমার মেয়েটা শারীরিকভাবে সেখানে থাকবে না, কিন্তু মানসিকভাবে থাকবে—আর আমার জন্য সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের রাতে এনরিকের সাথে ছিল তার প্রয়াত কন্যা জানা।

পিএসজির সমর্থেকেরা ভালোই বুঝতে পেরেছিলেন তাদের কোচের এই আবেগের গুরুত্ব। তাই বিশাল এক ব্যানারে লুইস এনরিকে আর জানার গ্রাফিতি এঁকে তারা মাঠে এসেছিলেন। যাতে দেখা যাচ্ছে, বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জয়ের রাতে বাবার সঙ্গে জানার পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য। বার্সার হয়ে প্রথম মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন এনরিকে; পিএসজির হয়েও ঠিক সেটাই করে দেখালেন। সেটাও আবার সুপারস্টারদের ছাড়া একটা দল নিয়ে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেয়েকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এনরিকে। সমর্থকদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই আবেগের। সমর্থকেরা আমার ও আমার পরিবারের কথা ভেবেছেন- এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। আমার মেয়ের কথা মনে রাখতে কোনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার প্রয়োজন নেই। আমি প্রতিদিন তার কথা ভাবি। সে এখনো আমাদের পরিবারের অংশ। আমরা যখন হেরে যাই, তখনও তার উপস্থিতি অনুভব করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের পরিবারের যৌথ ভাবনার ফসল, আমরা সকল নেতিবাচক ও ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে একইসাথে ভাবি। জানা সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকে। আমরা সবসময় তার কথা ভাবি। তাকে ভালোবাসি। চিরকাল তাকে আমরা হৃদয়ে বহন করব। আমি মনে করি, সে এখানে এসে আমাদের সঙ্গে দৌড়াবে। আমি পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সেই মুহূর্তটিও ভাগ করে নিতে চাই।’