ধবলধোলাইয়ের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন লিটন

হার যেন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিত্যসঙ্গী। আরব আমিরাতের পর পাকিস্তান সফরেও জয় অধরাই রইল টাইগারদের। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো ম্যাচ না জিতেই হোয়াইটওয়াশ হলো লিটন দাসের দল। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস।

গত রাতে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ১৯৬ রান সংগ্রহ করেও জয় অধরাই থেকে যায় বাংলাদেশের। ১৬ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে লিটনের কণ্ঠে ছিল হতাশা আর অনুশোচনা। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, 'আমি বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ, আমরা একটা ম্যাচও জিততে পারিনি। আশা করি, আমরা এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াব।'

তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে খানিকটা লড়াকু চেহারা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দুই বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন ৬৪ বলে ১১০ রানের জুটি গড়ে দেন দলকে উজ্জীবিত এক শুরু। এই জুটির ওপর ভর করেই ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় টাইগাররা।

সেই জুটির প্রশংসা করে লিটন বলেন, 'এই উইকেটে আমরা ভালো ব্যাটিং করেছি। ইমন-তানজিদ দারুণ ব্যাটিং করেছে। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আজ এগিয়ে এসেছে ও ভালো কাজ করেছে। যদিও সিরিজের আগের দুই ম্যাচে আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, কোনো বিভাগেই ভালো করতে পারিনি।'

প্রথম দুই ম্যাচেই পাকিস্তান করেছিল ২০১ রান করে। বাংলাদেশ হার মানে যথাক্রমে ৩৭ ও ৫৭ রানের ব্যবধানে। ব্যাটিং ব্যর্থতার ছাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। সিরিজ শেষে চরম হতাশা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে লিটনদের।

আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সিরিজ শেষে এবার বাংলাদেশের সামনে শ্রীলঙ্কা সফরের চ্যালেঞ্জ। সফরে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও সমান সংখ্যক টি-টোয়েন্টি খেলবে টাইগাররা। সিরিজ শুরুর আগে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ই এখন একমাত্র আশা।

তবে এমন হারের পরেও ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ইতিবাচক হচ্ছে ওপেনিং জুটিটা কাজে দিচ্ছে। আজকে আমরা দেখেছি যখন একসাথে ভালো করবে, তখন তারা (তানজিদ এবং ইমন) কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে । আমরা চেষ্টা করব পেসাররা যেন তাদের কাজটা ঠিকভাবে করতে পারে এমন উইকেটে।’

এরপরেই কোচ বললেন উইকেটের প্রসঙ্গে, ‘আমরা বাংলাদেশে সাধারণত এমন উইকেট পাই না। ফলে এমন উইকেটে যখন খেলি, ভিন্নভাবে কাজ করতে হবে। ফলে এসব জায়গায় আমাদের সঠিকভাবে কাজটা করতে জানতে হবে আমাদের।’