২০১৪ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যেন আবার ফিরে এলো। দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা শেষে ফের আইপিএল ফাইনালে জায়গা করে নিল পাঞ্জাব কিংস। আর এই অর্জনের পথরেখা রচনা করলেন এক অভূতপূর্ব ইনিংস খেলা শ্রেয়াস আইয়ার। তার ব্যাটে ভর করেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় পাঞ্জাব।
আহমেদাবাদে ২০৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেষ ১৩ বলে প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। এমন সময় মাঠে দাঁড়িয়ে আইয়ার, আর সঙ্গী মার্কাস স্টইনিস। চাপের মুহূর্তে কমেন্ট্রি বক্সে রবি শাস্ত্রী স্মরণ করিয়ে দিলেন—দুইশ ছাড়ানো রান তাড়া করে কখনো হারেনি মুম্বাই। কিন্তু ইতিহাস কিংবা পরিসংখ্যান নয়, আইয়ার লিখলেন নতুন কাব্য।
উনিশতম ওভারে আশিনী কুমারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকালেন পাঞ্জাব অধিনায়ক। পরের বলটি মিস করলেও নো বলের সুবাদে পেলেন ফ্রি হিট, যেটিকে কাজে লাগিয়ে মারলেন আরও একটি বিশাল ছক্কা। থামেননি সেখানেও। এরপর আরও দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র এক ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। শেষ পর্যন্ত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ১১ বছর পর ফাইনালে তুলে নায়ক বনে গেলেন শ্রেয়াস আইয়ার।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাঞ্জাবের। মাত্র ছয় রানেই সাজঘরে ফেরেন প্রাভসিমরান সিং। টপ এজ হয়ে ফাইন লেগে রিস টপলির হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর তিনে নামা জশ ইংলিস দেখান আগ্রাসী রূপ। বুমরাহর প্রথম ওভারেই দুটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়ে দলের মনোবল ফেরান অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার।
তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আশিনী কুমারের বলে ২০ রান করা প্রিয়ানশ আরিয়া বিদায় নেন মিড অফে হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ইংলিসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। হার্দিক পান্ডিয়ার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে কিপার বেয়ারস্টোর গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২১ বলে ৩৮ রানে।
এরপর মাঠে নামে স্থিরতা। আইয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধেন নেহাল ওয়াদেরা। ইনিংসের ১৩তম ওভারে রিস টপলিকে টানা তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন পাঞ্জাব অধিনায়ক। ওই ওভারে ওঠে ১৯ রান, পরের ওভারে বোল্ট দেন ১৪ রান। দুই ওভারে ৩৩ রানে ম্যাচ চলে আসে পাঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণে।
ওয়াদেরার ব্যাট থেকেও আসে কার্যকর ২৯ বলে ৪৮ রান। তবে হাফ সেঞ্চুরি ছোঁয়ার আগেই তিনি বিদায় নেন মিচেল স্যান্টনারের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ওয়াদেরার বিদায়ের পর হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আইয়ার, ২৭ বলে। এরপর স্টইনিসকে সঙ্গে নিয়ে দৃঢ়তায় এগিয়ে যান লক্ষ্যের দিকে।
শেষপর্যন্ত আইয়ারের ব্যাটে একের পর এক ছক্কা—অপূর্ব দৃশ্য। ইনিংসের শেষ ওভারে দরকার ছিল ৬ রান, সেটি তুলে নেন ওভারের প্রথম বলেই আরেকটি ছক্কা হাঁকিয়ে।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মুম্বাই গড়েছিল ২০৩ রানের পাহাড়। সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা দুজনই করেন সমান ৪৪ রান করে। বেয়ারস্টো ২৪ বলে ৩৮ আর নামান ধীর ঝড়ো ১৭ বলে করেন ৩৭ রান। পাঞ্জাবের পক্ষে দুটি উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। একটি করে উইকেট গেছে চাহাল, স্টইনিস, জেমিসন ও বৈশাখের ঝুলিতে।
এবার ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসের প্রতিপক্ষ আরসিবি। দুই দলই এখনও আইপিএল শিরোপার মুখ দেখেনি। তাই ২০২৫-এর এই ফাইনাল হতে যাচ্ছে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার মঞ্চ।
ফিরেই লাল কার্ড দেখলেন নেইমার, সান্তোসের হার
বিসিবি থেকে অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট ফারুকের