দেশীয় পশুর দখলে নোয়াখালীর হাট, লাভের প্রত্যাশা খামারিদের

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। হাটজুড়ে দেশীয় খামারিরা নিয়ে এসেছে বিভিন্ন জাতের গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও ক্রেতা-বিক্রেতার জমজমাট উপস্থিতিতে ঈদের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে হাট এলাকা।

স্থানীয় খামারিরা জানিয়েছেন, এ বছর আগেভাগেই পশু লালন-পালনে মনোযোগ দিয়েছেন তারা। খড়, ভুষি, ঘাস ও পুষ্টিকর খাদ্য দিয়ে গরু মোটা তাজা করেছেন।

হাতিয়া উপজেলার খামারি রুবেল হোসেন বলেন, হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত খামারে তিনি ১৫টি গরু লালনপালন করেছেন। যদি ভারত থেকে গরু বাজারে না আসে খরচ পুষিয়ে তিনি এবার লাভের আশা করছেন।

সদর উপজেলার জাবেদ হোসেন ২০টি গরু নিয়ে ধারকর্য করে ঈদে লাভের আশায় খামার গড়ে তুলেছেন। প্রতিবছরই তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে গরু তোলেন। এবছর দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি থাকায় লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা করেন।

একই প্রত্যাশা সুবর্ণচরের খামারি রুহুল আমিনেরও। তিনি বলেন, আমরা যারা সারা বছর গরু পালন করি, আমাদের জন্য এই কোরবানির ঈদই মূল সিজন। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা ভালো, তাই আশাবাদী।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যানুযায়ী নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৮০০ গরু মোটাতাজাকরণ খামার এবং ২৪১টি মহিষের খামার গড়ে উঠেছে। এছাড়া পারিবারিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ছাগল ও ভেড়া পালন হচ্ছে। বাজারে ভারতীয় বা বিদেশি পশুর প্রভাব তুলনামূলক কম থাকায় দেশীয় খামারিরা ভালো দামে বিক্রির আশা করছে এবারের ঈদে।

নোয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তাসলিমা ফেরদৌসি জানান, পুরো নোয়াখালী জেলায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭২টি গরু আছে এবং বাজারে চাহিদা আছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪টি। ফলে ১৪ হাজার ৫৮৮টি গরু উদ্বৃত্ত থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা অন্য কোনো জেলা থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে তিনি আশা করেন। কুরবানির ঈদ উপলক্ষে যেকোনো অসুস্থ পশুর বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদানে ৯টি উপজেলার বিভিন্ন হাটে সার্বক্ষণিক মোবাইল ভ্যাটেনারি টিম প্রস্তুত আছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এছাড়া এবার ইজারাকৃত হাটগুলোতে ভ্যাটেনারি ডাক্তার ও জরুরি প্রয়োজনে ভ্যাটেনারি টিমের মোবাইল নম্বর টাঙানো থাকবে বলেও তিনি জানান।

বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু বেশি পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গত কয়েকদিনে টানা বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে হাটে ক্রেতা কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে তত উপস্থিতি ব্যাপকহারে বাড়ছে।

এমিল সাদেকীন নামে একজন ক্রেতা জানান, কয়েকটি হাটে ঘুরেছি। গতবারের চেয়ে দাম বেশি মনে হচ্ছে। তবে দাম দরে বনিবনা হলে দেশীয় গরু দিয়েই তিনি কুরবানি দেবেন।

সব মিলিয়ে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাটে এবার দেশীয় খামারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সাধারণ মানুষের আগ্রহে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আশা করা যায়, এবছর খামারিরা পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ঈদ উদযাপন হবে আনন্দমুখর।