প্রবল বৃষ্টি ও সেচের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শিবালয় উপজেলার কয়েকটি চকের ইরি ধান ডুবে গেছে। এতে, কয়েকশ’ কৃষক ভোগান্তিতে পড়েছে। অপরিকল্পিত জলাধার নির্মাণের কারণে পানি আটকে থাকায় পাকা-আধাপাকা ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হচ্ছে।
এতে, কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগী কৃষকদের উপস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস দেয়।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দক্ষিণ পার্শে অবস্থিত প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে তিনটি সেতুর নিচে অপরিকল্পিত জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। এ তিনটি সেতুর দক্ষিণ পাশের এমন জলাধার নির্মাণের ফলে চলতি ইরি মওসুমে অন্তত আটটি বিরাট চকের কয়েক হাজার একর ধানের এমন ক্ষতি হয়।
উপজেলার এ মহাসড়কে বোয়ালী, শ্মশান ঘাট ও অর্ধগাড়িয়া সেতুর দক্ষিণ দিকে চার থেকে ছয় বিঘা জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে এমন জলাধার নির্মাণ করায় উত্তর দিকের প্রবাহিত পানি আটকে পড়ে। এতে, উত্তরের বেলতা, কৃষ্ণপুর, নিহালপুর, টুবাখালি, জমদুয়ারা, বীর বাশাইল, কান্দা বাশাইল, রাধাকান্তপুর, মাগুরাইল, মিরপুর প্রভৃতি চকে অনন্ত তিন হাজার হেক্টর মৌসুমী ইরি ধান ক্ষতির মুখে পড়ে। গত সপ্তাহে তিন দিনের প্রবল বৃষ্টি ও সেচের পানিতে এ পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়ে। বিভিন্ন চকের নিম্নাঞ্চলের ধান ডুবে যায়। অনেক কৃষক এমন পরিস্থিতিতে পানিতে থাকা পাকা ধান কেটে নিচ্ছে।
বেলতা গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম জানান, বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা জমিতে মাজা পানি থাকায় তার ১৬ বিঘা পাকা ধান কাটতে অসুবিধা হচ্ছে। এমন পানি যদি আর ৩/৪ দিন থাকে তাহলে আধাপাকা ধান গাছের গুড়া পচে গিয়ে হেলে পড়ে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে। ব্রিজের নিচে যে বাঁধ দেয়া আছে তা যদি দ্রুত কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না করা হয় আমাদের ধান সম্পূর্ণই নষ্ট হয়ে যাবে।
অপর কৃষক রাজিবুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর বৃষ্টির পানি জমিতে জমলেও ব্রিজের নিজ দিয়ে বের হয়ে যেত। এবার এখানে বাঁধ দেয়ায় তা আর বের হতে পাচ্ছে না। ব্রিজের উত্তর দিকে আরেকটি রাস্তা রয়েছে যেটা অনেকটা চাপানো থাকার কারণে পানি যেতে পারছে না। এদিকে আমাদের ধান পেকে গেছে। আজকে আমারা অনেক কৃষক একত্রিত হয়েছি এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা আশাবাদী যে প্রশাসন ২/১ দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তফাতদার জানান, উক্ত জমির জলাবদ্ধতা নিয়ে ইতিমধ্যে সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। দ্রুতই সমস্যা সমাধান করা হবে। এ বছর ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি ধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ হয়। সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শুধু বেলতা চকে অনন্ত ১৫শ’ বিঘা জমিতে আবাদকৃত বোরো ধানের একাংশ নিমজ্জিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি যোগদানের আগেই অনুমোদিত জাইকার অর্থায়নে ও এলজিইডি এ ব্রিজের নিচে জলাধার নির্মাণ করে। মূলত উদ্দেশ্যে ছিল নদীর পানি আসলে এক দুদিন আটকে রেখে যেন পাকা ধান কেটে নেওয়া যায়। আকটে রাখা যায় এবং ধান পাকা ধান কাটতে কোন অসুবিধা না হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।