পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ কমেছে ১৪ শতাংশ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ খাতে এবার ৭১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৮২ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে বরাদ্দ ১১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বা প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। তবে মোট বাজেটের ৯ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট পেশ করেন, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৪তম জাতীয় বাজেট। বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “টেকসই, নিরাপদ, ব্যয়সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ‘রোড মাস্টার প্ল্যান ২০০৯’ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, রেল পরিবহনকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী করতে ৩০ বছরমেয়াদি রেলওয়ে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ, গেজ একীভূতকরণ, আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম, সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে রেল সংযোগ উন্নয়ন, আধুনিক লোকোমোটিভ এবং বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের কাজ চলছে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত রেল চলাচল শুরু হয়েছে এবং যমুনা রেলওয়ে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে চলাচল শুরু হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা আরও টেকসই ও নিরাপদ করতে সরকার একাধিক আইন ও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিআরটিএর মাধ্যমে ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা-২০২৪’ জারি করা হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন মনিটরিং করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধনের কাজ চলছে। ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) পুনর্গঠনের জন্য ‘ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষ আইন-২০১২’ সংশোধন করে ‘বাংলাদেশ নগর পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে ৩৫৩ কোটি টাকা : নতুন অর্থবছরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৩৮ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার তুলনায় ৩৫৩ কোটি টাকা বেশি। তবে গত বছরের সংশোধিত বাজেটে এ বিভাগে ২৪ হাজার ৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ২৪ হাজার ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবিত হয়েছিল। প্রস্তাবিত বাজেটের ৪.৮৭ শতাংশ এ বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৬ হাজার ১৬৬ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ৩২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।

সেতু বিভাগে বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা : সেতু বিভাগে এবার বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৬ হাজার ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবিত হয়েছে, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭ হাজার ৩১৮ কোটি টাকার তুলনায় ১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা কম। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ০.৭৬ শতাংশ। পরিচালন ব্যয় ১০ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬ হাজার ১২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা গত বছরের উন্নয়ন ব্যয় ৭ হাজার ৩০৯ কোটি টাকার তুলনায় কম।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কমেছে ৬ হাজার ১২৮ কোটি টাকা : রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবিত হয়েছে, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১৮ হাজার ৭২ কোটি টাকার তুলনায় ৬ হাজার ১২৮ কোটি টাকা কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৪ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাবিত ছিল। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ১.৫১ শতাংশ। পরিচালন ব্যয় ৪ হাজার ২২৯ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ৭ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা গত বছরের উন্নয়ন ব্যয় ১৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকার তুলনায় কম।