ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে চাঙা দেশীয় বাজার

আসছে শনিবার পালিত হবে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদকে ঘিরে পশু কেনাকাটা, পোশাক, উপহার ও পারিবারিক ব্যয়ের জন্য চলছে প্রস্তুতি। এই বাড়তি খরচ সামাল দিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন দেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, জুন মাসের প্রথম তিন দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪২৯ কোটি টাকারও বেশি। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঈদ কেন্দ্রিক বাজারে প্রাণসঞ্চার করেছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ফেলছে ইতিবাচক প্রভাব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু কেনা, নতুন জামাকাপড় ও উপহারের জন্য দেশে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের মৌসুমে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ শুধু প্রবাসীদের পরিবারগুলোর আয়ের উৎসই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও রাখছে বড় ভূমিকা। ঈদের সময় এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনে, নগদ টাকার সরবরাহ বাড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে চাঙা করে।

রেমিট্যান্স বৈধপথে পাঠাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়ায় হুন্ডির পরিবর্তে এখন অধিকাংশ প্রবাসী বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছেন।

চলতি অর্থবছরের আগের মাস মে-তে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা।

২০২৪ সালের মে মাসে দেশে এসেছিল ২২৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। সেই তুলনায় এ বছরের মে-তে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। এর আগে চলতি বছরের মার্চে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ কেন্দ্রিক বাড়তি খরচ এবং প্রবাসীদের দেশে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধির কারণেই এই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগস্টে আসে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি এবং মে মাসে আসে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।

অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা আট মাস দুই বিলিয়ন এবং মার্চ মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুনের ৩ তারিখ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ২ হাজার ১৬৬ কোটি ডলার।