ঈদে চোরাশিকার ঠেকাতে মাঠে বন বিভাগ, ছুটি বাতিল ৩১ ইউনিটের

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চোরাশিকারি চক্রের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কায় পূর্ব সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কোরবানির ঈদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের আওতাধীন শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর বনভূমি রক্ষায় ৩১টি ইউনিট অফিসের কর্মীদের ছুটি বাতিল করে নতুন করে জোরদার করা হয়েছে কম্বিং অপারেশন।

প্রায় এক মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া বিভাগের নতুন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে এরই মধ্যে বনের সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে কয়েকটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিশেষ করে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারের মতো অপরাধ ঠেকাতে চালু হয়েছে পায়ে হেঁটে প্যারালাল লাইন সার্ভে, ফুট পেট্রোলিং, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম।

বন বিভাগের আশঙ্কা, ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে হরিণ শিকার ও সংরক্ষিত এলাকায় বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা আবারও বাড়তে পারে। এ কারণেই এবার বিশেষভাবে সতর্ক থেকে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বনরক্ষীরা বিভিন্ন টহল ফাঁড়ি ও স্টেশনের অধীন বনে টহল বাড়িয়েছেন। গঠন করা হয়েছে একাধিক পায়ে হেঁটে টহল দল। নিয়মিত অভিযান চলছে বনের গভীরে। পাশাপাশি বন পেশাজীবী ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সভা আয়োজন এবং লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী শিকার বা পাচার সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রেখেছে বন বিভাগ।

এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। কর্দমাক্ত ও নদী-খাল বেষ্টিত এই বিশাল বনভূমি সীমিত জনবল নিয়ে রক্ষা করা কঠিন হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এবারের ঈদ-উল-আজহায় পূর্ব সুন্দরবনের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীরা ছুটিতে যাচ্ছেন না—এটি একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। গত মাসে পরিচালিত কম্বিং অপারেশনে আমরা ভালো ফল পেয়েছি। এবারও ঈদকে ঘিরে যেন কোনো অপতৎপরতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে আমরা পূর্ণ প্রস্তুতিতে আছি।’