ঈদুল আজহার পর অনেকেই কোরবানির পশুর ভুড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন। সুস্বাদু এই খাবারটি রান্নার আগে পরিষ্কার করা বেশ সময়সাপেক্ষ ও দুর্গন্ধযুক্ত কাজ হলেও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাজটি সহজেই সম্পন্ন করা যায়।
প্রথম ধাপ: প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড়
ভুড়ি পরিষ্কারের জন্য আগে থেকেই কিছু জিনিস প্রস্তুত রাখলে কাজটি তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। যেমন—একটি বড় বালতি বা টব, একটি ধারালো ছুরি বা স্ক্র্যাপার, চুন, লবণ, গরম পানি, ভিনেগার বা লেবুর রস এবং স্যানিটারি গ্লাভস।
দ্বিতীয় ধাপ: ভিজিয়ে নিন ও ধুয়ে ফেলুন
প্রথমে ভুড়িটি পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ভেতরের জমে থাকা চর্বি ও ময়লা কিছুটা গলে সহজে উঠে যাবে। এরপর ভুড়ি কেটে বা ফুঁড়ে ভেতরের অংশ খুলে দিন এবং পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। জমে থাকা আধা-পচা খাবার বা ময়লা হাত দিয়ে বের করে ফেলুন এবং দুই-তিনবার ভালোভাবে কচলে ধুয়ে নিন।
তৃতীয় ধাপ: লবণ ও চুন ব্যবহার
এবার চুন ও লবণ ব্যবহার করে ভুড়ি ঘষে পরিষ্কার করার সময়। দুই থেকে তিন টেবিল চামচ লবণ এবং দুই চা চামচ চুন ভুড়ির ওপর ছিটিয়ে ভালোভাবে ঘষে দিন। এরপর ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার স্ক্র্যাপার বা ছুরি দিয়ে উপরের কালচে চামড়ার স্তর ঘষে তুলে ফেলুন। প্রয়োজনে আরও লবণ ও চুন ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘষার সময় কিছুটা দুর্গন্ধ হতে পারে, তবে পরে ধুয়ে ফেললে তা অনেকটাই কমে যাবে।
চুনের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে ভুড়ির স্বাভাবিক টেক্সচার নরম হয়ে যেতে পারে। তাই চুনের ব্যবহার বুঝে করতে হবে।
চতুর্থ ধাপ: গরম পানিতে ধোয়া ও গন্ধ দূর করা
চুন ও লবণ ঘষার পর ভুড়ি ভালোভাবে কয়েকবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ভুড়িতে লেগে থাকা ময়লা সহজেই উঠে যাবে এবং দুর্গন্ধও অনেকটা কমে আসবে। চাইলে এই সময় পানিতে কয়েক চামচ ভিনেগার বা লেবুর রস মিশিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এতে ভুড়ির গন্ধ আরও কমে যাবে।
পঞ্চম ধাপ: হালকা আগুনে সেঁকে নেওয়া
অনেকে পরিষ্কার করার সময় ভুড়ির বাইরের অংশ হালকা আগুনে ধরে কিছুটা সেঁকে নেন। এতে চামড়ায় থাকা অবশিষ্ট চুল বা ময়লা পুড়ে যায় এবং পরিষ্কার হয়। তবে দীর্ঘ সময় আগুনে ধরালে ভুড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন জরুরি।
শেষ ধাপ: রান্নার উপযোগী করে প্রস্তুত রাখা
সবশেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভুড়ি আবার ধুয়ে নিন এবং রান্নার উপযোগী করে কেটে নিন। চাইলে এই সময়ই লবণ ও আদা-রসুন বাটা দিয়ে ১০–১৫ মিনিট ম্যারিনেট করে রাখুন। এতে রান্নার সময় দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যাবে।
অতিরিক্ত টিপস:
* পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করলে হাতে দুর্গন্ধ বসবে না।
* যদি ভুড়ির সঙ্গে নড়িও পরিষ্কার করতে চান, তাহলে একই ধাপে ধাপে এগিয়ে যান।
* রান্নার সময় পেঁয়াজ, রসুন ও গরম মসলা বেশি ব্যবহার করলে গন্ধ কমবে এবং স্বাদ বাড়বে।
* পরিষ্কার ভুড়ি কয়েক দিন সংরক্ষণ করতে চাইলে তা সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিন।
এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ঈদের পর কোরবানির ভুড়ি পরিষ্কার আর কোনো ভোগান্তির কারণ হবে না বরং উপভোগ্য খাবারে পরিণত হবে সহজেই।