ব্যাকফুটে সিঙ্গাপুরই, বাংলাদেশের সমস্যা-সম্ভাবনা

হামজা চৌধুরী আসার পর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দুটি অফিশিয়াল ম্যাচ খেলেছে। আর এ দুটো ম্যাচের কোনোটিতেই বাংলাদেশের গোল হজম করতে হয়নি। অর্থাৎ মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের শক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটাই সব প্রতিপক্ষের জন্য একটা দুশ্চিন্তার কারণ। এর সঙ্গে যেহেতু নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রতিপক্ষ দলগুলো বাংলাদেশের ট্যাকটিকস বা ফরমেশন ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছে না। ফলে তারা শুরুর দিকে ডিফেন্সিভ খেলছে। ভারত ও ভুটান দুটো দেশই প্রথম ৩০ মিনিট ডিফেন্সিভ খেলেছে। এবং সিঙ্গাপুরও সম্ভবত সেই পথেই হাঁটবে। আগামীকালের ম্যাচে দলের সঙ্গে যোগ হবেন শমিত সোমও। এবং  তাই আমি বলবো এই ম্যাচে বাংলাদেশ নয় বরং সিঙ্গাপুরই থাকবে ব্যাকফুটে।

সিঙ্গাপুরের শক্তিমত্তা

সিঙ্গাপুর গত কয়েক ম্যাচ ধরেই ৪-৩-৩ ফরমেশন সাজায় কাগজে-কলমে। কিন্তু যখন খেলা শুরু হয়, তখন তারা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলে। এখানে সবসময় দুজন মিডফিল্ডার থাকে। তারা পিভট হিসেবে কাজ করে মূলত বলটাকে ঘোরায়। এ দায়িত্ব পালন করেন সিঙ্গাপুরের অধিনায়ক হারিস হারুন ও শাহ শাহিরানের কাঁধে। এ দুজনের মুভমেন্ট ও পাসিং অ্যাবিলিটি খুবই সুন্দর। সেক্ষেত্রে দেশটির বর্তমানের সেরা খেলোয়াড় জাপানি বংশোদ্ভুত কিয়োকি নাকামুরা সাবস্টিটিউট বেঞ্চ থেকেই শুরু করবেন। হারুন ও শাহিরানকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য মিডফিল্ডার হামি সেয়াহিন থাকবেন তাদের সামনে। সিঙ্গাপুর আক্রমণ শানাবে দুই উইং থেকে। এ দায়িত্ব পালন করবেন লেফটে গ্লেন কোয়েহ ও রাইটে হারিস স্টুয়ার্ট। আর শাহ আওয়াল আনোয়ারের ইনজুরির কারণে মূল স্ট্রাইকারের রূপে দেখা যাবে ৬ ফুট লম্বা ইখসান ফান্দিকে। লম্বা হওয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যারিয়াল ঝুঁকির কারণ হতে পারেন। সিঙ্গাপুর ডিফেন্স করলেও এক সঙ্গে অ্যাটাকও করবে। তাই আমাদেরকে ডিফেন্সিভ মিডে রেডি থাকতে হবে। বিশেষ করে কর্নার, সেটপিস এইসব ক্ষেত্রে।

সিঙ্গাপুরের ফরমেশন:

সিঙ্গাপুরের ফরমেশন

বাংলাদেশের শক্তিমত্তা

সিঙ্গাপুর যেহেতু শুরুর দিকে ডিফেন্সিভ খেলতে তাই আমাদের প্রথম থেকেই আক্রমণ শুরু করে দেওয়া উচিত হবে। ভারতের বিপক্ষে খেলা অ্যাপ্রোচটি আমাদের জন্য সঠিক হবে ৪-৩-৩। যেখানে আমাদের তিনজন স্ট্রাইকারই পুরোটা সময় প্রেস করবে প্রতিপক্ষের ঘরে। এই প্রেসিংয়ের কারণেই ভারত প্রেশারে পড়েছিল। শমিত সোম আসলে সেটা দলে আরও ফ্লুডিটি যোগ করবে। ৪-৩-৩ হলে কোচ কাবরেরা যখন মাঠে খেলাবেন তখন ৪-২-৩-১ হিসেবেও আমরা ভাবতে পারি। সেক্ষেত্রে হামজা ও হৃদয় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে থাকলে ভালো একটা ভারসাম্য থাকবে। কাউন্টার অ্যাটাক হলেও তারা সামলাতে পারবেন। তাদের সামনে শমিতের বল মুভমেন্টে থাকা উচিত। ফ্রন্টে রাকিব তো থাকবেনই। তারসঙ্গে অভিজ্ঞতার বিচারে শাহরিয়ার ইমন ও শেখ মোরসালিনকে দিয়েই শুরু করানো উচিত। এতে প্রেসিংটা ভালো হবে। রাকিব ও ইমনের ড্রিবলিং দক্ষতাও দলের কাজে আসবে। প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর বিবেচনায় ডিফেন্সিভ ফোর হওয়া উচিত সাদ, তপু, তারিক এবং ঈসা ফয়সাল। এতে বাংলাদেশ একটা ব্যালেন্সড অ্যাটাক লাইন মেইনটেইন করার পাশাপাশি মিডফিল্ড ও ডিফেন্সেও ব্যালেন্স থাকবে। আর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরে পরিবর্তন তো আনাই যাবে।

বাংলাদেশের ফরমেশন:

বাংলাদেশের ফরমেশন

ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের মতো এ ম্যাচটিতেও বাংলাদেশ তার সেরা নৈপুণ্য দেখাবে বলেই আমার বিশ্বাস। আমার মতে সিঙ্গাপুর এই ম্যাচে মানসিকভাবে ব্যাকফুটে আছে। সেই সুযোগ নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কেননা অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। আর আমাদের হোম ক্রাউডের সুবিধাটুকু নিয়ে, ব্যালেন্সড একাদশ নামিয়ে ম্যাচটি বের করে নিয়ে আসতে হবে।

লেখক: ফুটবল বিশ্লেষক ও কলামিস্ট