গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে শুধু নির্বাচনের জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেছেন, আপনারা নির্বাচন-নির্বাচন করছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। এদেশে নির্বাচন হবে, তবে তার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এদেশের সকল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে।
সোমবার (৯ জুন) বিকালে হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের পর্যটন কেন্দ্র কমলার দিঘীর পাড়ে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, ছাত্র-জনতার খুন, এদেশের মানুষের অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ হলে তা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া স্বাধীন হয়েছে। মালয়েশিয়া পেয়েছিল মাহাথির মোহাম্মদের মতো সৎ ও নিষ্ঠবান শাসক। আর আমরা পেয়েছি শেখ মুজিবের মত শাসক যার আমলে এদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
ভারতের আগ্রাসী মনোভাব মেজর জিয়াকে বাঁচতে দেয়নি উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, বাংলাদেশের ওপর ভারতের নীতি ছিল আগ্রাসী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অনেক শাসকের পরিবর্তন হয়েছে। তার মধ্যে কেবল মেজর জিয়া এদেরকে প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছেন। ভারতের আগ্রাসী মনোভাব আমাদের মেজর জিয়াকে বাঁচতে দেয়নি। শেখ হাসিনার পতন এদেশে শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের পতন নয়, শেখ হাসিনার পতন মানে এদেশে ভারতীয় আধিপত্যের পতন।
নিজ জন্মভূমি হাতিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে আমার কাছে জানতে চায় আমি জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করেও কেন হাতিয়া নিয়ে ভাবছি। আমি তাদেরকে বলি, হাতিয়ার মানুষের দুঃখ, দুর্দশার ভাগাভাগি করতে হাতিয়া যাচ্ছি। দীর্ঘ সময় থেকে হাতিয়া সন্ত্রাসের আখড়ায় রূপ নিয়েছিল। সেই সন্ত্রাসের আখড়া থেকে হাতিয়াকে বসবাসযোগ্য হাতিয়ার রূপ দেওয়ার জন্য আমি হাতিয়া নিয়ে ভাবছি।
হাতিয়া কলেজের সাবেক শিক্ষক মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।