সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কবিগুরুর কাছাড়িবাড়িতে এক দর্শনার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কাস্টোডিয়ানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এদিন শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা কাস্টোডিয়ানসহ নির্যাতনকারী কর্মচারীদের শাস্তির দাবিতে সেøাগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভ মিছিলটি শাহজাদপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে বিক্ষুব্ধরা রবীন্দ্র কাছাড়িবাড়ির মধ্যে ঢুকে কাস্টোডিয়ানের অফিসসহ অডিটোরিয়াম ও লাইব্রেরিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সেই সঙ্গে অডিটোরিয়াম, বিদ্যুৎ ও বাগান পরিচারক মো. সিরাজুল ইসলামকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত ৮ জুন বিকেলে স্ত্রী সুইটি ও ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ঘুরতে যায় মো. শাহনেওয়াজ নামের এক দর্শনার্থী। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নিয়ে টিকিট দিলেও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য টাকা নিয়েও কোনো টোকেন দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে কাছারিবাড়ি দর্শন শেষে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের টিকিট দেখতে চায় মেইন গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা টিকিট দেখাতে ব্যর্থ হলে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে কাস্টোডিয়ানসহ কাছারিবাড়ির সব স্টাফ গিয়ে শাহনেওয়াজকে মারধর করে ধরে নিয়ে এসে অফিসের মধ্যে শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে খবর পেয়ে শাহনেওয়াজের অভিভাবক এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় শাহনেওয়াজ বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ঐদিন রাতেই একটি লিখিত অভিযোগ দেন কাস্টোডিয়ানসহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার দুদিন হয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শাহজাদপুরের সর্বস্তরের ব্যানারে মানুষ দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত এবং তদন্ত সাপেক্ষ।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর কাছারিবাড়িতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা (কাস্টোডিয়ান) হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি গত ৮ জুনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত উল্লেখ করলেও ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন।