বিগত ১৭ বছরের তুলনায় এবার হবিগঞ্জ জেলায় বালুমহাল থেকে দ্বিগুণেরও বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি বাংলা সনে চারটি বালুমহাল থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল মাত্র সাড়ে ১১ কোটি টাকা। সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার কারণেই বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল।
জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭টি সাধারণ বালুমহালের মধ্যে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য চারটি বালুমহাল ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো হচ্ছে খোয়াই নদী (নরপতি ও ঘরগাঁও) অংশে ৪৮ একর, পাকুরিয়া ৫৬.২৯ একর, রাজারবাজার ২২.৫০ একর ও মনতলায় ৫.০৬ একর। এর মধ্যে রাজারবাজার অংশ থেকেই ১৫ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। গত ১৪৩১ বাংলা সনে রাজারবাজার মহাল থেকে ইজারা মূল্য আদায় হয়েছিল চার কোটি ৫৭ লাখ টাকা। চলতি বাংলা সনে পাকুরিয়া থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে আট কোটি টাকা, যা গত সনে ছিল চার কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া চলতি বাংলা সনে নরপতি অংশে তিন কোটি ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও মনতলা অংশে ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত বছর এ মহাল দুটি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল যথাক্রমে দুই কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ও ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। খোয়াই নদীর বাঁধরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বন্যা প্রতিরোধের জন্য চলতি সনে জেলার ৩টি সাধারণ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। এগুলো হচ্ছে খোয়াই নদীর হবিগঞ্জ সদর অংশে ৩৭৪ একর, চুনারুঘাটের দেওর গাছে ১০.০৪ একর ও খোয়াই নদীর উবাহাটা অংশে ২০ একর। গত বছর দেওরগাছ অংশে কেউ দরপত্র দাখিল না করায় নিলাম হয়নি। তবে অপর দুটি মহাল থেকে যথাক্রমে তিন কোটি ৮১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ও এক কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছিল। চলতি বাংলা সনের ৪টি সাধারণ বালুমহালের জন্য ২২৫টি দরপত্র বিক্রি হলেও ১৩টি দরপত্র দাখিল করা হয়। খোয়াই নদী (ঘরগাঁও) অংশে একটি, পাকুরিয়া অংশে ৪টি, রাজারবাজার অংশে ৫টি এবং মনতলা মহালের জন্য ৩টি দরপত্র দাখিল করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জে ৩১টি বালুমহাল রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি সাধারণ ও ২৪টি সিলিকা বালুমহাল। এ ৭টি সাধারণ বালুমহালের মধ্যে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য চারটি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মিসবাউল বারী লিটন বলেন, ‘এবার সরাসরি রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকায় প্রশাসন রাজস্ব আদায় করার সুযোগ পেয়েছে। এর আগে রাজনৈতিক দলের লোকজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ইজারায় অংশ নেওয়ার সাহসই পাননি। ফলে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে কমমূল্যে প্রশাসনকে ইজারা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।’ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাঈমা খন্দকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের মধ্যে এত দরপত্র বিক্রির রেকর্ড নেই। শিগগিরই আরও কিছু বালুমহালকে ইজারার আওতায় আনা হবে।