প্রায় ২৪ হাজার দর্শকের সামনে কাক্সিক্ষত জয় এনে দিতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। মঙ্গলবার ঢাকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষভাগে সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগে সুনামি বইয়ে দিয়েও হার এড়ানো যায়নি। অথচ দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রাকিব হোসেনের গোলে জেগেছিল আশা। তবে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে বলি হতে হয়েছে। জয় থেকে গেছে অধরা। এত এত দর্শককে জয় উপহার দিতে না পারার দায় নিজেদের ঘাড়েই নিচ্ছেন গোলদাতা রাকিব। ম্যাচ শেষে বারবার দুঃখপ্রকাশ করেছেন এই দেশসেরা ফরোয়ার্ড। ভাই হারানোর শোক বুকে চেপে খেলতে নেমে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি গোলকিপার মিতুল মারমা। দুটি গোল হজমেই আছে এই তরুণের দায়। তাই তিনিও ক্ষমা চেয়েছেন। আর ঢাকা ছাড়ার আগে নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোকিত আগামীর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রেজেন্টেশনে রাকিব বলেন, ‘আসলে এটা আমরা আশা করিনি। আমি সরি বলতে চাই তাদের যারা অনেক দূরদূরান্ত থেকে এসে আমাদের পুরো ৯০ মিনিট সাপোর্ট দিয়েছেন। আমাদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন। আমি আবারও আমাদের দর্শকদের কাছে সরি বলতে চাই, তাদের জন্য আজ যা করা দরকার ছিল তা আমরা করতে পারিনি। আশা করি আমরা সামনের ম্যাচে কামব্যাক করব এবং আজকের মতো সবাই আমাদের সাপোর্ট করবেন। দর্শকের ভালোবাসা কখনো কল্পনা করিনি এতটা হবে। এই ভালোবাসাই আমাদের শক্তি হয়ে থাকবে পরের ম্যাচের জন্য।’
স্ট্রাইকার না হওয়া সত্ত্বেও রাকিবকে নিজের প্রিয় পজিশনে না খেলিয়ে দিয়েছিলেন গোলের দায়িত্ব। একটা গোল ঠিকই তিনি করেন ম্যাচের ৬৭ মিনিটে। তবে এর কয়েক মিনিট পর কাবরেরা বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নেন। রাকিবকে নামিয়ে আনেন রাইটব্যাক পজিশনে। দেশের আক্রমণভাগের সেরা অস্ত্রকে নিচে নামিয়ে আনার ব্যাখ্যা জানা যায়নি হামজা চৌধুরী, শমিত সোমের মতো কাবরেরাও বুধবার স্পেনগামী বিমান ধরায়।
তবে যাওয়ার আগে ঠিকই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা ও কানাডা প্রিমিয়ার লিগ তারকা শমিত দল নিয়ে জানিয়েছেন প্রত্যয়। ফেসবুকে আবেগময় এক বার্তায় হামজা লিখেছেন, ‘আমরা যেটা চেয়েছিলাম, এটা সেই ফল নয়! কিন্তু আমরা গর্ব করতে পারি একটি দল হিসেবে এবং একটি জাতি হিসেবে! আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে, কারণ এই তো মাত্র শুরু, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই আমরা সেখানে পৌঁছাব, যেখানে যেতে চাই! অন্তরের গভীর থেকে ভালোবাসা সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অক্টোবরেই!’
ইনস্টাগ্রামে বাংলাদেশ ফুটবল দল এবং সিঙ্গাপুর ম্যাচ নিয়ে শমিত সোম লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, প্রথমবারের মতো এই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার এবং খেলার এক অসাধারণ অনুভূতি হয়েছে। ম্যাচে আমরা যা চেয়েছি, তা করতে পারিনি। তাই একটু হতাশ। তবে এই দলের অংশ হতে পেরে আমি দারুণ গর্বিত। আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, বাফুফের সব সদস্য এবং অবশ্যই ভক্তদের ধন্যবাদ আমাকে এভাবে গ্রহণ করার জন্য। সবে তো শুরু হলো।’
বুধবার ফেসবুকে আবেগঘন এক পোস্ট দেন গোলকিপার মিতুল মারমা। তিনি লেখেন, ‘ভাই হারানোর শোক নিয়েও আমি দেশকে সেরাটা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করি। চেষ্টা করেছি ম্যাচে অবদান রাখার, কিন্তু পারিনি। এ জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমা চাচ্ছি। এটা আমার জন্য সত্যিই কঠিন সময় ছিল। ভুলের জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন।’ তিনি আরও লেখেন ‘আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক মুহূর্তগুলো আমার ওপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। আমাকে এমন কিছু জিনিসের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। কিছুদিন আগে যখন আমার বড় ভাই মারা যান, তখন সত্যিই দুঃখ পেয়েছিলাম।’