জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতার একটা গল্প আছে। সেটা প্রায় সবার জানা। গল্পটা এ রকমÑ কবি জসীমউদ্দীন ‘কবর’ কবিতাটা যখন লেখেন তখন তিনি আইএ ক্লাসের ছাত্র। বিএ’র ছাত্র থাকা অবস্থায় এটি মেট্রিক পর্যায়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই কিংবদন্তিতুল্য গল্পের গুরুত্বপূর্ণ কুশীলব দীনেশচন্দ্র সেন। কারণ, কবিতাটা পাঠ্য হওয়ার ব্যাপারে তিনিই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এই গল্পের শেষ দিকটা অনেকটা রূপকথার গল্পের শেষের দিকের মতো। ‘কবর’ পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কবি হিসেবে জসীমউদ্দীনের খ্যাতি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ল। এরপর জসীমউদ্দীনের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। জসীমউদ্দীনের আত্মজীবনীমূলক বিভিন্ন বইয়ে এই বয়ানটা পাওয়া যায়। বিশেষত স্মরণের সরণী বাহি ও যাঁদের দেখেছি বইয়ে এই ঘটনার বিশদ বর্ণনা আছে। ঠাকুরবাড়ির আঙিনাতেও আছে। ‘কবর’ কবিতা বিষয়ক গল্পটা কম গুরুত্বপূর্ণও না। কারণ, এটা শুধু গল্প নাÑ ইতিহাসও।
কিন্তু ‘কবর’ কবিতার ওই গল্পের পরতে পরতে মোড়ে মোড়ে লক্ষ করা যায় একটা সংগ্রাম। সেই দিকটাও উন্মোচন করা দরকার। কারণ কবিতাটার এই সংগ্রামী অভিযাত্রার মধ্যে লুকিয়ে আছে ওই কালের কবিতার ইতিহাস; নন্দনতাত্ত্বিক রাজনীতির একটি গভীর-গোপন বয়ান। ১৯২৫ সাল বা এর আশপাশের সময়ের কবিতার ওই নন্দনতাত্ত্বিক রাজনীতির ইতিহাস জানা-বোঝাটা খুব জরুরি। কারণ, ইতিহাস অস্পষ্ট থাকলে বর্তমানও ঝাপসা হয়ে ওঠে।
‘কবর’ কবিতা প্রথম ছাপা হয় কল্লোল পত্রিকায়। ১৩৩২ সালের আষাঢ় সংখ্যায়। সে হিসেবে ইংরেজি ১৯২৫ সালের জুন-জুলাই সংখ্যায়। একই বছরে ভারতবর্ষ পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয় সচিত্র কবর। কল্লোল পত্রিকাটার রুচি ও উদ্দেশ্য-আদর্শ সম্পর্কে বিশদ বলার কিছু নেই। শুধু বলা দরকার যে, ১৯২৩ থেকে ১৯২৯, মাত্র সাত বছর স্থায়ী হয়েছিল কল্লোল। কিন্তু সময়ের ধারক হয়ে ওঠার কারণে এবং প্রভাব বিস্তারী ভূমিকার কারণে পত্রিকাটা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের বিশেষ অংশ হয়ে আছে। ‘কল্লোল যুগ’ বলে একটি সাহিত্যযুগের অস্তিত্ব অধিকাংশ ইতিহাসকার স্বীকার করে নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের জীবনবোধ ও সাহিত্যরুচির প্রবল প্রতাপ তখন, কিন্তু এর বাইরে বিশ শতকে বাংলায় নতুন প্রজন্মের কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে নতুন জীবনবোধ আর রুচির একটা নতুন ঢেউ উঠেছিল। সেটাকেই গ্রেপ্তারের বাসনা নিয়ে কল্লোল পত্রিকাটি আত্মপ্রকাশ করেছিল। রবীন্দ্রোত্তর যুগের তরুণ সৃজনশীলরা জীবনকে যেভাবে দেখছিলেন এবং যে ভাষা-উপমা-চিত্রকল্পে প্রকাশ করছিলেন বা করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেনÑ পুরনো পত্রিকাগুলোর পক্ষে তাকে ধারণ করা আর সম্ভব হচ্ছিল না। একই সময়ে প্রগতি, কালিকলমের মতো একই ধরনের আরও পত্রিকাও যে প্রকাশিত হয়েছিল তা ওই বিশেষ সময়েরই কারণে। সারা পৃথিবীতে নতুন ভাব-চিন্তা-সৃজনশীলতার এই এক বৈশিষ্ট্য যে, তা নতুন মুখপত্রের জন্ম দেবেই।
জসীমউদ্দীন রবীন্দ্রোত্তর যুগের ওই নতুন প্রজন্মেরই একজন ছিলেন। কিন্তু নতুন প্রজন্মের নতুন সাহিত্যরুচির সঙ্গে জসীমউদ্দীনের সাহিত্যের দূরবর্তী কোনো সম্পর্কও ছিল না। যদিও অনেকে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, জীবনবোধে জসীমউদ্দীনের সঙ্গে ‘কল্লোল যুগের’ লেখকদের একটা গভীর মিল ছিল। কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন, তিনি বেশ কিছু দূর পর্যন্ত কল্লোলের কবিদের মতোই ‘আধুনিক’ ছিলেন। এগুলো আসলে দলে ভেড়ানোর ‘ফন্দি’; কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর মতো ব্যাপার। প্রকারান্তরে নিজস্ব নন্দনের পক্ষে সাফাই গাওয়া। যদি সাদৃশ্যই থাকবে তাহলে তো কল্লোল পত্রিকার পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে ওঠার কথা জসীমউদ্দীনীয় কবিতা দিয়ে। কিন্তু তা তো হয়নি। এমনকি পরেও হয়নি। এ নিয়ে জসীমউদ্দীনের মধ্যে আক্ষেপও ছিল।
আসলে ‘কল্লোল যুগে’ শুধু নয়, তারও আগের উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের আধুনিক সাহিত্যেও জসীমউদ্দীনের ‘তদ্ভব শব্দে ঠাসা’, ‘গ্রাম্যগানের লক্ষণাযুক্ত’ ও ‘গ্রাম্য
কৃষকজীবনের শরিক’ যে কবিতা তা রচিত হওয়ার জো ছিল না। তেমন একটা রচিত হয়ওনি। কারণ তখন কলকাতা ছিল ঔপনিবেশিক চিন্তা ও রুচি দ্বারা পুরোপুরিভাবে গ্রাসিত। জসীমউদ্দীনীয় কবিতা ছিল আধুনিক সাহিত্যের আকাক্সক্ষা ও ট্রেন্ডের বাইরের জিনিস। ব্যাপারটা বরং একটু ‘সেকেলে’, ‘অন্তর্ঘাতমূলক’ ও কিঞ্চিৎ ‘গর্হিত’ ছিল। বিশ শতকের বিশের দশকে এসে কবিতাকে ‘মধ্যযুগে ও ঈশ^রগুপ্তের যুগে’র ধারাবাহিকতায় দেশীয় আধুনিকতার ইশারাবাহী করে তোলা তো প্রবল প্রতাপী নন্দনজগতের কাছে গর্হিত কাজ বলে বিবেচিত হওয়ারই কথা।
ওই ধরনের কবিতা সম্পর্কে তো উনিশ শতকের সত্তরের দশকেই রায় দিয়ে দিয়েছেন তালেবর সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যুগের হাওয়া বুঝতে পেরে তিনি যা বলেছিলেন তা অনেকটা এ রকমÑ ‘আমার গুরু ঈশ^রচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন গত যুগের শেষ কবি; একেবারে খাঁটি বাঙালি কবি। এত খাঁটি যে আজকাল আর এমন দেখতে পাওয়া যায় না।’ এ কথা বলেই বঙ্কিম বলেছেন, ‘অমন খাঁটি বাঙালি কবি আর পেয়ে কাজ নাই।’ ডেপুটি বঙ্কিমচন্দ্র তার ওই রায়ের উপসংহার টানলেন এভাবে, ‘নবযুগের নতুন কবি মধুসূদন দত্ত। বাংলা সাহিত্যের পতাকায় লিখে দাও শ্রীমধুসূদন।’ সুতরাং জসীমউদ্দীন যে নন্দনরুচির এবং জীবনবোধের মানুষ বলে নিজেকে চিরকাল দাবি করে এসেছেন তা তো ওই ইউরোপ প্রভাবিত নন্দনরুচি ও জীবনবোধের বাইরের জিনিস। তিনি কীভাবে কল্লোলের সঙ্গে বা ওই যুগের কাব্যরুচির সঙ্গে মেশেন! মেশেনও নাই। জসীমউদ্দীন খুব আশা করে ‘কবর’ কবিতাটি পাঠিয়েছিলেন কল্লোল পত্রিকার অফিসে। আশা করার কারণ ছিল দুটি। প্রথম কারণটি জসীমউদ্দীনের ভাষায়, “তখন ‘কল্লোল’ পত্রিকায় নতুন লেখকেরা উৎসাহ পাইত।” তিনিও নতুন লেখক হিসেবে লেখাটি পাঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয় কারণটিও শোনা যাক তারই বয়ানে। তিনি বলছেন, ‘আমি এই কাগজ [কল্লোল] ফরিদপুরে বিক্রয় করিয়া তাহার দাম পাঠাইয়া দিতাম। এই জন্য ‘কল্লোলে’র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার কিছু আলাপ ছিল।’ কিন্তু কল্লোল কর্তৃপক্ষ তার কী দাম দিলেন! কবিতাটি হাতে পেয়ে তারা ছয় মাস ফেলে রাখলেন। মানে ছয় সংখ্যা পার হয়ে গেল ছাপানোর নাম-গন্ধ নাই! শেষে ছাপলেন। কীভাবে তা জসীমউদ্দীনের ভাষায় শোনা যাকÑ ‘কল্লোল-সম্পাদক সেই কবিতাটি প্রায় ছয় মাস পরে তাহার কাগজের পেছনের দিকে ছোট অক্ষরে ছাপাইলেন।’
‘বিদ্রোহী’ বা অনেক বিখ্যাত কবিতা ছাপা হওয়ার পরে যে একটা হুলস্থুল পড়ে যায় ‘কবর’ প্রকাশের পর তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া কলকাতার সাহিত্যিক-সমাজে সৃষ্টি হয়েছিলÑ এমন তথ্য পাওয়া যায় না। কেউ কবিতাটিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেননি। করলে জসীমউদ্দীনের তা কোথাও না কোথাও উল্লেখ করার কথা। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ কেউ তার কবিতা সম্পর্কে কোথাও শংসাসূচক কিছু বললেই তিনি আহ্লাদে আটখানা হয়ে যেতেন এবং বিচিত্র পরিসরে তা প্রচার করে বেড়াতেন। তা যেহেতু দেখা যায় না সেহেতু বলা যায় যে, ইউরোপীয় অর্থে আধুনিক হওয়ার বাসনায় ঊর্ধ্বশ^াস প্রতিযোগিতায় লিপ্ত কলকাতার তেমন কোনো কবি-সাহিত্যিক কবিতাটিকে চিহ্নিত করেননি। জসীমউদ্দীন খোদ কল্লোলগোষ্ঠীর লেখকদের দিকে অনুযোগের আঙুল তুলে বলেছেন, ‘আমি যদিও কল্লোলের একজন, আমার লেখা লইয়া কেহই প্রশংসা করিলেন না।’
এই যখন অবস্থা, অগত্যা ফরিদপুর থেকে জসীমউদ্দীন চিঠি লিখলেন দীনেশচন্দ্র সেনকে। অনুরোধ করলেন কল্লোলে সদ্য প্রকাশিত তার ‘কবর’ কবিতাটি পড়তে। দীনেশ পড়লেন। মুগ্ধ হলেন। অবাক হলেন। এবং রীতিমতো কাঁদলেন। মুগ্ধতার কথা দীনেশ জানালেন জসীমউদ্দীনকে। উত্তরে জসীম যা লিখলেন তা থেকেও বোঝা যায় তার ‘কবর’ বা ওই ধরনের কবিতার কদর কলকাতা বরাবরই করে না। তিনি দীনেশ সেনকে লিখলেন, ‘এমন কত কবিতাই রচনা করেছি। কিন্তু কোনো ভালো মাসিক পত্রিকাই তা ছাপে না।’
‘কবর’ কিসিমের কবিতা লেখার আগে জসীমউদ্দীন ‘রবীন্দ্রানুসারী’ কবিতা লিখতেন। সেগুলো কলকাতার অনেক বড় বড় পত্রিকায় ছাপা হতো। কিন্তু যখন থেকে তিনি ‘কবর’ ঘরানার গ্রামীণ জীবননির্ভর কবিতা লেখা শুরু করলেন তখন থেকে কলকাতার পত্রিকাগুলো তার কবিতা ছাপা বন্ধ করে দিল। এই আক্ষেপ জসীমউদ্দীনের আত্মজীবনীমূলক নানা লেখায় আছে। ‘কবর’ কবিতাটিকেও দীনেশ সেন ছাড়া আর কেউ চিহ্নিত করেননি। দীনেশচন্দ্র সেন ‘কবর’ কবিতা ও জসীমউদ্দীনের ‘উপরে প্রকা- প্রবন্ধ’ লিখলেন ‘ফরওয়ার্ড’ পত্রিকায়। কবিতাটি মেট্রিকে পাঠ্য করার ব্যবস্থাও করলেন খুব দ্রুতই। আর তখনই সমস্ত কলকাতা বাধ্য হয়ে বলল, ‘বেশ! বেশ!’ তারা বাহবা দিতে লাগল; দিতে বাধ্য হলো। কারণ দীনেশ সেন বাহবা দিয়েছেন। এবং কবিতাটি ইতোমধ্যে বিস্ময়করভাবে পাঠ্যও হয়ে গিয়েছে।
এই তো ‘কবর’ কবিতার ইতিহাস। এই ইতিহাস একাধারে অবহেলার এবং সংগ্রামের। ফলে কিছুতেই বলতে পারছি না যে, জসীমউদ্দীন ‘কবর’ কবিতা নিয়ে বাংলা কবিতার ভূগোলে এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন।
শুধু ‘কবর’ কবিতা কেন! জসীমউদ্দীনের নক্সী কাঁথার মাঠও তো প্রকাশের পর কলকাতার কবি-সাহিত্যিক সমাজ পড়েননি। পড়বেন যে না, সে কথা বইটি প্রকাশের আগেই দীনেশচন্দ্র সেন বলেছিলেন। বইটি দ্রুত প্রকাশের জন্য তিনি জসীমউদ্দীনকে বারবার তাগাদা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি মরে গেলে আমার মতো করে অন্য কেউ তোমার বইয়ের সমালোচনা করবে না।’ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর নক্সী কাঁথার মাঠ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলেন সেখানেও যথেষ্ট সংশয় ছিল। তিনি যথেষ্ট দ্বিধায় ছিলেন যে, এই বই আধুনিক চিন্তা ও রুচিতে গমগম করা কলকাতার সাহিত্যিক সমাজ গ্রহণ করবে তো! ১৯৩২ সালে প্রকাশিত ধান খেত কাব্যগ্রন্থ নিয়েও জসীমউদ্দীনকে কম নিন্দা-মন্দ শুনতে হয়নি। এসব বলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না। বরং বলতে চাইছি, এটা ছিল ওই সময়ের কলকাতার নন্দনতাত্ত্বিক বাস্তবতা। এটা ছিল আসলে দুইটা নন্দনের লড়াই। জসীমউদ্দীন ওই লড়াইয়ের সংখ্যালঘু পক্ষ ছিলেন।
‘কবর’ কবিতার নাড়ি পোতা দেশের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশ সাধারণ মানুষের যাপন-চিন্তনের মধ্যে। এর গতিবিধি জনসংস্কৃতির গভীর প্রদেশে। এই কবিতার যোগ তো কবিগানের সঙ্গে; লোকগানের সঙ্গে। জসীমউদ্দীন নিজেই এ কথা বলেছেন। গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের শোক প্রকাশের বাণীভঙ্গি প্রায় হুবহু উঠে এসেছে এই কবিতায়। এর ভাষা সব সময় ঔপনিবেশিক ভদ্রলোকী কবিতার ভাষার মতো ‘যথেষ্ট পরিস্রুত’ ও ‘উন্নত’ নয়! কালো কালো কিষাণ-কিষাণী এর নায়ক-নায়িকা। এই কবিতা ‘ইউরোপীয় ভাবধারার মদিরা পান করিয়া উন্মত্ত হওয়া’ ১৯২৫ সালের উপনিবেশিত কলকাতায় কে পড়বে! এই কবিতার মূল ভোক্তা ও ভক্ত মূলত কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। কবিতাটিকে সমকালের শিক্ষিত সাহিত্যিক সমাজে তো সংগ্রাম করতেই হবে। বাংলাদেশেও কি অধিকাংশ সাধারণ মানুষকে মুষ্টিমেয় অসাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হয় না!
জসীমউদ্দীনকে বাংলা কবিতায় এখন আর টেনে আনার সুযোগ নেই। সময়, রুচি, ভাষা সব পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। তবু গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে এখনো দুই প্রকার সাহিত্য রচিত হয়Ñ ‘দেশি সাহিত্য’ ও ‘বিদেশি সাহিত্য’। জসীমউদ্দীনই বাংলা সাহিত্যকে এই দুই ভাগে ভাগ করতেন। জসীমউদ্দীন মনে করতেন তিনি ‘দেশি সাহিত্য’ রচনা করেন। বাংলাদেশে মূলত ‘বিদেশি সাহিত্যের’ জয়জয়কার। এদেশের সাহিত্যের সঙ্গে গণমানুষের চৈতন্যের সম্পর্ক কম। দেশি সাহিত্যকে এখানে বরাবরই সাধারণ মানুষের মন জয় করে ও সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। জসীমউদ্দীন আমাদের জাতীয় চৈতন্যের কবি। তাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা অনেক দূর পর্যন্ত বিদেশি কবিতার সঙ্গে সংগ্রাম করতে পারি। ‘কবর’ কবিতার সংগ্রামী ইতিহাস আমাদের কাব্য-কবিতাকে দেশ ও দশের প্রাণের কাছে নিয়ে আসার দারুণ এক প্রেরণা হতে পারে বলে মনে করি।