প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফিরেছিলেন, তাতে হতাশা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ব্যর্থতার সব দাগ মুছে দিয়েছেন এইডেন মার্করাম। ২০৬ বলের ধৈর্য আর শৃঙ্খলায় গড়া ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে এনে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা।
তার নেতৃত্বেই ১১ বছর আগে বিশ্বকাপ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেটা ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের সঙ্গে লেগেছিল চোকার্স তকমা। সেবার অধিনায়ক থাকলেও এবার সহ-অধিনায়ক। তবুও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের ম্যাচসেরা এই ইনিংসকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলতেও দ্বিধা করেননি মার্করাম।
ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, ‘এর আগে এত গুরুত্বপূর্ণ রান কখনো করিনি। কী আশ্চর্য, প্রথম ইনিংসে শূন্য করার পর এমন কিছু হবে ভাবিনি। কিছুটা সৌভাগ্য ছিল, মাঝখানে সময় কাটাতে পেরেছি, রানও পেয়েছি—এতেই আমি খুশি।’
লর্ডসের ঐতিহাসিক গ্যালারি আর প্রোটিয়া সমর্থকদের ভালোবাসার উষ্ণতাও স্পর্শ করেছে তার হৃদয়। তিনি বলেন, ‘লর্ডস এমন একটা জায়গা, যেখানে প্রতিটি টেস্ট ক্রিকেটার খেলতে চায়। আর এখানে ফাইনাল খেলা—এটা অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। অনেক দক্ষিণ আফ্রিকান সমর্থক এসেছেন, যারা পারেননি, তারাও ঘরে বসে দেখেছেন—এই দিনটা আমাদের জন্য অন্যতম স্মরণীয়।’
দ্বিতীয় ইনিংসে কৌশল পাল্টে ধৈর্যের সঙ্গে স্কোরিং গিয়ারের সমন্বয় করেই এসেছে এই সাফল্য। এ বিষয়ে তিনি যোগ করেন, ‘প্রথম ইনিংসে একটু গুটিয়ে খেলেছি, তাই এবার কিছুটা বদল এনেছি। উইকেটের চরিত্র, বিপক্ষের বোলিং—সব কিছু মিলিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক বল পেতাম, তাদের যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চেয়েছি। নাথান লায়ন অসাধারণ একজন বোলার। ওর সঙ্গে বহুবার ঠাট্টা-মশকরা হয়েছে। ম্যাচটা যদি পঞ্চম দিনে গড়াত, স্পিনে ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠত।’
সেই সঙ্গে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অবদানের কথাও বললেন কৃতজ্ঞচিত্তে, ‘সত্যি বলতে, ওকেই কৃতিত্ব দিতে হবে। গত দুই-তিন বছর ধরে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইনজুরির পরও মাঠ ছাড়তে চায়নি। কোনভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছে, গুরুত্বপূর্ণ রান করেছে। ওর ইনিংসটা অনেক দিন মনে থাকবে।’
শূন্য থেকে শতকে উঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিয়েছেন বিশ্ব শিরোপা। লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ট্রফি হাতে যখন বিজয়ের উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন, তখন শুধু দল নয়, গোটা জাতিই যেন গর্বে বুক ফুলিয়ে বলেছে—আজ চোকার্স নয়, আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।