মিরাজের জ্বরকে বাংলাদেশ দলের ‘মিষ্টি মাথাব্যাথা’ বললেন সিমন্স

গলে আগামী ১৭ জুন শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। তার আগে নিজেদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত টাইগার শিবির। তবে এর মাঝেই দলে কিছু শঙ্কার মেঘে দুশ্চিন্তা উঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের শারীরিক অবস্থা। লঙ্কায় পৌঁছেই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। যে কারণে দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছেন না, টিম হোটেলেই থাকতে হচ্ছে তাকে।

এছাড়া দেশ থেকে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন, ওপেনিংয়ে নামতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তিনি নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করে যাননি সিরিজ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। এবার মুখে কুলুপ এঁটেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও।

গলে অবস্থানরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিরাজের বর্তমান অবস্থা, কন্ডিশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

সিমন্স বলেন, ‘আজ সকালে সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী মিরাজের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। আমরা আজ সন্ধ্যায় ফিরে তার অবস্থা দেখব। ওষুধ সেবনের পর কালকে অনুশীলনে নামতে পারবে কি না, তা বোঝা যাবে।’

অবশ্য মিরাজের অসুস্থতা দলের কম্বিনেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাত নম্বরে ব্যাট করা এবং বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে বলেই মত সিমন্সের, ‘হ্যাঁ, কিছুটা তো উদ্বেগ রয়েই গেছে। তবে একজনের দুর্ভাগ্য আরেকজনের সুযোগ এনে দেয়। যারা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে, তারাই জানে—সে না খেললে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। এটা একরকম ‘মিষ্টি’ মাথাব্যথা।’

পেস বোলিং কোচ শন টেইটের সঙ্গে নাহিদ রানা। ছবি: মোশারফ ভুবন

কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে পেস-স্পিনের ভারসাম্য নিয়েও ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানালেন কোচ, ‘আমরা এখনো কম্বিনেশন চূড়ান্ত করিনি। কাল উইকেটটা ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেব। এখানে সবসময়ই স্পিন টার্ন করে, কিন্তু সেটা কতটা হবে, সেটা দেখতে হবে।’

নাজমুল হোসেন শান্ত ওপেনিংয়ে নামবেন কি না, সে প্রশ্নেও ধোঁয়াশা থাকছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো ব্যাটিং কম্বিনেশন ঠিক করিনি। কাল সিদ্ধান্ত হবে।’

গলের উইকেট নিয়ে আশাবাদী সিমন্স, ‘বৃষ্টির পরও উইকেট দেখতে ভালো লাগছে। আরও একটু সময় গড়ালে পরিস্থিতি বোঝা যাবে। উইকেট সবসময়ই ঘুরে এখানে, তবে কতটা ঘুরবে তা কাল বোঝা যাবে।’

অনুশীলনের পাশাপাশি মুশফিকের খুনসুটি। ছবি: মোশারফ ভুবন

শান্তকে নিয়ে প্রত্যাশা বেশি নয় বলে জানিয়েছেন কোচ, ‘আমি চাই শান্ত যেন তার খেলাটা উপভোগ করে। আগেরবার যখন এখানে খেলেছে, আমি দেখেছি সে খুব উপভোগ করছিল। এবারও শুধু এটুকুই চাই, যেন সে আনন্দ নিয়ে খেলতে পারে। বাড়তি কোনো চাপ তার ওপর নেই।’

ফাস্ট বোলারদের নিয়েও আশাবাদী সিমন্স। অভিজ্ঞ পেসারদের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সে অনেক দিন পর ফিরেছে। আশা করছি সে টেস্ট উইকেন্ডে খেলতে পারবে। দলে ফিরে সে বেশ ভালো অবস্থায় আছে।’

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। ছবি: মোশারফ ভুবন

সিমন্স বললেন, দল এগোচ্ছে, শেখার প্রক্রিয়াও চলছে, ‘গত টেস্টে আমাদের ব্যাটিং পার্টনারশিপ নিয়ে ভাবনার প্রমাণ মিলেছে। আমরা উন্নতির পথে আছি। অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে, তাই প্রতিটি টেস্ট থেকে শেখার চেষ্টা করছি।’

দল গড়ে তোলার প্রয়াসে কোনো ছাপ না রেখেই, প্রতিটি প্রশ্নে সাবলীলভাবে উত্তর দিয়ে গেলেন ফিল সিমন্স। এখন সবকিছু নির্ভর করছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আর গলের উইকেটের প্রকৃত চেহারার ওপর।