ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আল আহলির বিপক্ষে বড়ো লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেছে ইন্টার মায়ামি ৩৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক অস্কার উস্তারির কল্যানে ।
হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ জুড়ে ম্যাচে আধিপত্য ছিল মিশরীয় ক্লাব আল আহলির। একের পর এক আক্রমণে তারা চেপে ধরে মায়ামিকে। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে মাহমুদ ‘ত্রেজেগে’র পেনাল্টি শট থেকে। তবে উস্তারি তার বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ দক্ষতায় শটটি ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলেও ত্রেজেগে ব্যর্থ হন গোল করতে।
এই পেনাল্টির সূত্রপাত ৪১তম মিনিটে, যখন বদলি হিসেবে নামা আহমেদ সাইদ ‘জিজো’ হালকা ধাক্কায় পড়ে গেলে রেফারি আলিরেজা ফাঘানি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন, যদিও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।
প্রথমার্ধে আল আহলির একতরফা দাপটের পর দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় ইন্টার মায়ামি। শেষ মুহূর্তে মেসির শট পোস্টে লেগে ফিরলে বঞ্চিত হয় জয় থেকে। অন্যদিকে আল আহলির গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়িও সমান তৎপর ছিলেন, যিনি ফাফা পিকল্ট এবং ম্যাক্সিমিলিয়ানো ফ্যালকনের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন।
তবে পুরো ম্যাচে উস্তারির নৈপুণ্যই ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। তিনি আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছেন, যার মধ্যে একটি ছিল গোললাইনে, আরেকটি ছিল পেনাল্টি। ১০টি লং পাসের মধ্যে ৭টি সঠিক জায়গায় পৌঁছান। সাফাস্কোরে ৯.৭ রেটিং পেয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও ছিল দারুণ। একজন লেখেন, “অস্কার উস্তারি মেসি ও ইন্টার মায়ামিকে অপমানের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আল আহলি সহজেই পাঁচ গোল দিতে পারত।” আরেকজন বলেন, “মেসি ও উস্তারি নিজের কাজ করেছেন, কিন্তু আজ তাদের সতীর্থরা ডুবিয়েছেন।”
অনেকে উস্তারির অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বলেন, “এত বড় মঞ্চে এমন একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দলকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।” কেউ কেউ স্মৃতিকাতর হয়ে লেখেন, “উস্তারির পেনাল্টি সেভ যেন মনে করিয়ে দিল সেই সময়কে, যখন তিনি ও মেসি একসাথে আর্জেন্টিনার যুব দলে খেলতেন। অবিশ্বাস্য!”
উল্লেখ্য, উস্তারি ২০০৫ সালে মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খেলেছেন মেক্সিকোর পচুকা, চিলির অডাক্স ইতালিয়ানোসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। এখন পর্যন্ত তিনি ২২ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন ক্লাবটির হয়ে।
ম্যাচ শেষে উস্তারি নিজে অবশ্য নিজেকে নয়, বরং পুরো দলের রক্ষণের প্রশংসা করেন, “আমি নিজের কথা বলতে পছন্দ করি না। পুরো দল দুর্দান্তভাবে রক্ষণ সামলেছে, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।” আর মায়ামির ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ বলেন, “আমরা ভাবিনি গোলরক্ষক এতগুলো সেভ করবে। সে-ই ছিল প্রথমার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরানো খেলোয়াড়।”
বাভুমার স্ত্রী বিল্ডার্স, কত টাকা সম্পত্তির মালিক তিনি
ক্যাভালরির হয়ে খেলতে নামার আগে শমিতের বুকে বাংলাদেশের পতাকা