গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণা করে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। পরে কমিটি বাতিলের দাবিতে রবিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপির এক গ্রুপ। এ সময় কমিটির পক্ষে মিছিল নিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী, বিএনপির নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে কালিয়াকৈর উপজেলা, পৌরসভাসহ জেলার আটটি ইউনিটের কমিটি বাতিল করে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে। গত শনিবার সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর উপজেলা, পৌরসভাসহ জেলার অন্যান্য ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা আহ্বায়ক কমিটি। এর মধ্যে মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সিকদারকে কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও এম আনোয়ার হোসেনকে সদস্য সচিবসহ ৪১ বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।
এ ছাড়া মামুদ সরকারকে আহ্বায়ক ও মহসিন উজ্জামানকে সদস্য সচিব করে কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির কমিটি মানতে নারাজ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদসহ তাদের সমর্থকরা। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে সে রাতেই বিভিন্ন শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন নেতাকর্মীরা। পরদিন রবিবার সকালেও একই দাবিতে তাদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ সময় নতুন কমিটির পক্ষ থেকে লাঠিসোটা নিয়ে আরেকটি মিছিল বের করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে অশান্ত হয়ে উঠে কালিয়াকৈরের পরিবেশ, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু তারপরও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দু-গ্রুপের নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় বিএনপির উভয় গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। অপর দিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছে কমিটির পক্ষের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ বলেন, শনিবার একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে, তারা সবাই এক সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলাফেরা করেছেন। স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনেও তাদের দেখা যায়নি। যার কারণে কমিটি বাতিলের দাবিতে আমাদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর (গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব) লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে আমরা পকেট কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, যাদের নতুন কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা সবাই ক্লিন ইমেজের। তাদের ব্যাপারে এলাকার মানুষের কোনো অভিযোগ নেই। সকালে নতুন কমিটি আনন্দ মিছিল বের করলে পদবঞ্চিত হয়ে একটি পক্ষ তাদের ওপর হামলা করে। তবে দলের নেতাকর্মীকে শান্তি বজায় জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।