আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল। যদিও ২০০২ সালের পর থেকে তাদের শিরোপা সংখ্যা পাঁচে আটকে আছে, কিন্তু আসন্ন সম্প্রসারিত ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিল এক অন্যন্য নজির স্থাপন করেছে। ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আর্থিক ও ফুটবলীয় শক্তির কারণে এই টুর্নামেন্টে সাফল্য পাওয়া কঠিন হলেও, ৩২ দলের এই আসরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্লাব প্রতিনিধিত্ব করছে ব্রাজিল। কোপা লিবার্তাদোরেসের শেষ চারবারের চ্যাম্পিয়ন পালমেইরাস, ফ্লামেঙ্গো, ফ্লুমিনেন্স ও বোটাফোগো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।
ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ক্লেবারসনের মতে, এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি দূর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ফ্ল্যামেঙ্গোর, ‘এই মুহূর্তে ব্রাজিলের সেরা দল ফ্লামেঙ্গো, কারণ তাদের দলে সেরা খেলোয়াড়রা রয়েছেন। অনেকেই ইউরোপের বড় লিগ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলে ফিরে এসেছেন, যা তাদের দক্ষতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।’ কিন্তু তাদের দৌড়ও কতদূর হতে পারে? টুর্নামেন্টে ১২টি ইউরোপীয় ক্লাবের অংশগ্রহণের ফলে প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক কঠিন। পুরনো ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ ১০টি আসরের মধ্যে ৬টিতেই দক্ষিণ আমেরিকার দল ফাইনালে উঠলেও প্রতিবারই হেরেছে। ক্লেবারসনের মতে, নতুন ফরম্যাটে সেমিফাইনালে পৌঁছানোটাও ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর জন্য একটি ‘বিশেষ অর্জন’ হবে।
এই টুর্নামেন্টের দীর্ঘ ফরম্যাট দলগুলোর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। ক্লেবারসন যোগ করেন, ‘আগে ব্রাজিলের ক্লাবগুলো মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিত। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন, অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হবে এবং আরও স্মার্ট হতে হবে।’
ফ্লামেঙ্গোর প্রথম দুটি ম্যাচ ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে একটি চেলসির বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে নিউ ইয়র্কে ব্রাজিলের বিশাল সংখ্যক সমর্থক বাস করে। ক্লেবারসনের বিশ্বাস, ‘ফ্লামেঙ্গো এবং বোটাফোগোর বড় সুবিধা হলো তাদের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করে। তারা মাঠে এসে দলকে সমর্থন জোগাবে এবং খেলোয়াড়দের বাড়তি শক্তি দেবে।’
ফ্লামেঙ্গো দলে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় রয়েছেন। কোপা লিবার্তাদোরেস বিজয়ী দলের সদস্যদের পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা দানিলোও এই দলে আছেন। সম্প্রতি তাদের সবচেয়ে বড় চমক হলো জর্জিনহোকে দলে ভেড়ানো, যিনি ইতালির হয়ে ইউরো ২০২০ জিতলেও জন্মসূত্রে একজন ব্রাজিলিয়ান। এই টুর্নামেন্টে চেলসির নজর থাকবে দুটি বিশেষ দিকে। প্রথমত, তাদের ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী দলের সদস্য থিয়াগো সিলভা, যিনি ৪০ বছর বয়সে ফ্লুমিনেন্সের রক্ষণের নেতৃত্ব দেবেন। ক্লেবারসনের মতে, ‘অবশ্যই সে ২৫ বছর বয়সী থিয়াগো সিলভা নয়, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা এবং দূরদৃষ্টি ফ্লুমিনেন্সকে ভালো স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করবে।’
পালমেইরাসের হয়ে খেলছেন ১৮ বছর বয়সী এস্তেভাও, যাকে চেলসি ইতিমধ্যেই কিনে নিয়েছে এবং ক্লাব বিশ্বকাপের পরেই ইংল্যান্ডে চলে যাবেন।
ইউরোপীয় ক্লাবগুলো যখন একটি দীর্ঘ মৌসুম শেষে ক্লান্ত, তখন ব্রাজিলিয়ান দলগুলো তাদের মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে নামছে, যা তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। ক্লেবারসন মনে করেন, খেলোয়াড়রা কেবল অর্থের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন না। তার ভাষায়, ‘খেলোয়াড়দের জন্য এই টুর্নামেন্টে খেলা একটি অসাধারণ সুযোগ, এটি একটি মিনি বিশ্বকাপ। এমন খেলোয়াড়দের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে, যাদের সঙ্গে হয়তো আর কখনো দেখা হবে না। এটি খেলোয়াড়দের জন্য সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।’