শ্রীলঙ্কায় সিরিজ ড্র করাও হবে বড় অর্জন

শ্রীলঙ্কায় খেলা বরাবরই কঠিন। সেখানকার কন্ডিশন যেকোনো সফরকারী দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে আমাদের ফলাফলও তেমন আশানুরূপ নয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন এবং আমি মনে করি, আমাদের টেস্ট দলটিকে নিয়ে আশা দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, টেস্ট ক্রিকেটে তার প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না। আমাদের টেস্ট দলটা টি-টোয়েন্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অভিজ্ঞতায় বেশ সমৃদ্ধ। সত্যি বলতে, টেস্ট দল হিসেবে শ্রীলঙ্কার চেয়ে আমাদের খেলোয়াড়রাই বেশি অভিজ্ঞ। মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটাররা রয়েছে দলে। তাদের অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। তাই আমার বিশ্বাস, সিনিয়র খেলোয়াড়রা জুনিয়রদের সঠিকভাবে গাইড করতে পারবে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। পারফরম্যান্সের দিক থেকে তুলনা করলে আমরা হয়তো কিছুটা পিছিয়ে থাকব। কিন্তু রেকর্ড দিয়ে তো আর সবসময় মাঠের খেলার বিচার করা যায় না। আমাদের টেস্ট দলে যারা আছে, যেমন সাদমান ইসলাম একজন টেস্ট বিশেষজ্ঞ, অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তও একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এদের নিয়ে আমি আশাবাদী।

অনেকেই হয়তো চাইবেন আমরা সিরিজ জিতে ফিরি। কিন্তু আমি বাস্তবতার জমিনে পা রাখতে চাই। এই সিরিজটা যে ২-০ ব্যবধানে জিততে হবে, এমনটা আমি ভাবি না। আমার কাছে মনে হয়, শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে সিরিজটা ড্র করতে পারলেও সেটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন হবে। টেস্ট জেতা অবশ্যই কঠিন হবে, কিন্তু আমি বলব না যে এটা অসম্ভব।

আমাদের দলের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজ। সে সবসময়ই ওয়ানডে এবং টেস্টে দলের জন্য তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করেছে। তার উপস্থিতি দলের জন্য বড় একটি ইতিবাচক দিক। মুশফিকুর রহিমের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তার রেকর্ড বেশ ভালো। যদিও সে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অফফর্মে রয়েছে, তবে আমি আশাবাদী যে চেনা কন্ডিশনে সে নিজেকে ফিরে পাবে এবং তার কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু দেখতে পাব। অধিনায়ক শান্তকে নিয়েও আমি খুব আশাবাদী। তার কাঁধে এখন বাড়তি দায়িত্ব এবং আমি বিশ্বাস করি, সে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবে।

সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা টেস্ট সিরিজে প্রভাব ফেলবে না। কারণ আমাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলে ফিরেছে, যারা টেস্টের মেজাজটা বোঝে। তাই আমি টেস্ট সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে চাই এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি।