এনসিসি গঠন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সংস্কারে একমত এবি পার্টি

জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ প্রবর্তনের প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। আজ বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে অংশ নিয়ে দলটি তাদের এই অবস্থান তুলে ধরে।

সভায় এবি পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক। বৈঠকের সূচনায় কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ এনসিসি গঠন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এবং এ সংক্রান্ত বক্তব্য দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতীতে ‘নির্বাহী বিভাগ’-এর নামে শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিকেও বলতে শোনা গেছে যে তিনি ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’।”

তিনি আরও বলেন, অযোগ্য ও দলপন্থী ব্যক্তিদের পদায়নের ফলে জনবল নিয়োগের দায়িত্বে থাকা পিএসসিতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা নজিরবিহীন।

মঞ্জুর ভাষ্য, “প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই পুরোনো অবস্থা বহাল রাখব, নাকি কাঠামোগত সংস্কার করব? সহস্র প্রাণ ও রক্তসাগর পেরিয়ে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, তাকে অর্থবহ করতে হলে সংস্কার জরুরি। সেই বিবেচনায় এনসিসি গঠন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতির প্রতি এবি পার্টির সম্মতি রয়েছে।”

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আব্দুল হক সভায় বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদকে বাস্তবিক অর্থে কার্যকর করতে হলে কেবল নির্বাচনী পদ্ধতির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, তার ভূমিকার গুণগত রূপান্তর প্রয়োজন।” তিনি সতর্ক করে দেন, “নয়তো একটি সুন্দর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েও রাষ্ট্রপতি একজন প্রতীকী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেই অকার্যকর থাকবেন।”

বৈঠক শেষে এবি পার্টির নেতারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।