সাকিব আল হাসান কথা রেখেছেন। গত মাসে পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘কয়েকটি লিগের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, সামনে আরও অনেক লিগে ব্যস্ত থাকতে হবে।’ সেই ধারাবাহিকতায় এবার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নতুন ঠিকানায় নাম লেখালেন তিনি।
সিপিএলের ২০২৫ মৌসুমের জন্য সাকিবকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন। সবশেষ ২০২২ সালে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে ক্যারিবীয় লিগে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার। দুই বছরেরও বেশি সময় পর আবারও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের রঙিন ক্রিকেটে দেখা যাবে তাকে।
সিপিএলে সাকিবের অভিজ্ঞতাও বেশ সমৃদ্ধ। গায়ানা ছাড়াও খেলেছেন বার্বাডোজ ট্রাইডেন্স ও জ্যামাইকা তালাওয়াশের হয়ে। ৩৬ ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ৪৪৮ রান, গড় ১৬.৫৯ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৯.৫৩। বল হাতে নিয়েছেন ৩৭ উইকেট, ইকোনমি রেট মাত্র ৬.৮২। ২০১৩ সালে বার্বাডোজের হয়ে নিয়েছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ৬ রানে ৬ উইকেট, যা এখনও সিপিএলের সেরা বোলিং স্পেলগুলোর একটি।
নতুন দল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনের স্কোয়াডে সাকিবের সঙ্গে আছেন পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম, আফগান পেসার নাভিন উল হক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ওবেদ ম্যাককয়, রাখিম কর্নওয়াল, ওডিন স্মিথসহ আরও অনেকে। নতুন এই দলটিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ ও কার্যকর ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন সাকিব।
সিপিএলে অভিজ্ঞতা, চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণের কারণে এই লিগে নিয়মিতই চাহিদা থাকে সাকিবের। বয়স বাড়লেও টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার ধার কমেনি একটুও। বরং দেশি-বিদেশি তরুণদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে পারাটাও বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার হয়ে সিপিএলে এবার কেমন পারফরম্যান্স করেন সাকিব, এখন অপেক্ষা সেই দেখার। তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে সিপিএলে খেলা এই অলরাউন্ডারের দিকে চোখ থাকবে সবারই—ব্যাট হাতে যেমন, তেমনি বল হাতে।