ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণে ‘মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বৃদ্ধি’ পেয়েছে, যা চীনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
চীন-মধ্য এশিয়ার দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এসব কথা জানান শি জিনপিং। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী হস্তক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্ব চলবে।”
শি জিনপিং তার বার্তায় অতীতের পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের পতনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১০০ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিশ্ববাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং পৃথিবীর ২০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত। এছাড়াও ২০০ বছর আগে ফ্রান্স ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং ৪০০ বছর আগে স্প্যানিশ সাম্রাজ্য ম্যানিলা থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত শাসন করেছিল। তবে সব সাম্রাজ্য শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে গেছে।
তিনি যোগ করেন, “ক্ষমতা হ্রাস পায়, প্রভাব স্থানান্তরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বে সম্মান হারায়, তবে তারাও সেই ফল ভোগ করবে। বিশ্ব সর্বদা এগিয়ে চলে।” শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে সম্মান হারানোর আগে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্রে জানা গেছে, শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, “চীন অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে। সামরিক সংঘাত কোনো সমস্যা সমাধান নয়, বরং এটি উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় যা আন্তর্জাতিক স্বার্থের পরিপন্থি।”
শিগগিরই উত্তেজনা কমানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
একই দিনে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ‘অবৈধ হামলা’ বন্ধ করার আহ্বান জানায়। তারা অভিযোগ করে, পশ্চিমা দেশগুলো সংকটকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শত্রুতার প্রতিশোধ নিচ্ছে।
এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ও কড়া ভাষায় ইসরাইলের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গণহত্যার ক্ষেত্রে হিটলারকে ছাড়িয়ে গেছেন” এবং তার কার্যক্রমকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। এরদোগান ইরানের আত্মরক্ষাকে স্বাভাবিক ও বৈধ বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। গত সোমবার রাতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আহ্বান জানান। তবে চলমান সংঘাতের কারণে এবারের সম্মেলন বেশিরভাগ সময় আড়ালেই থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বিশ্বব্যাপী গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।