কুষ্টিয়ায় তিন সপ্তাহে সাপে কাটা পাঁচ রোগীর হাসপাতালে মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় গত তিন সপ্তাহে বিষধর সাপের কামড়ে আহত পাঁচ রোগীরই হাসপাতালে এসে মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, গত এক মাসে পাঁচজন সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে এলে তাদের সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তিনি দাবি করেন, সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে হাসপাতালটিতে। রোগীরা ঘটনার শিকার হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে এসে পৌঁছালেই তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

জেলা সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের সাপে কামড়ালে ছুটে আসতে হয় এ হাসপাতালে। গত ২৮ মে থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বশেষ সাপের কামড়ে আহত সাব্বির আহমেদ (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে আসা সব রোগীরই মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জানান, সাপে কামড়ানো রোগীরা হাসপাতালে দেরিতে এসে পৌঁছে বিধায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগসহ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কলেজশিক্ষক শিহাব উদ্দিন বলেন, কোনো কোনো রোগীর স্বজনরা ঘটনার পর সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য সাপ মেরে রোগীসহ দ্রুত হাসপাতালে এসেও রোগীকে বাঁচাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৮ মে সকাল ১০টায় কুমারখালী উপজেলার চর জগন্নাথপুর গ্রামের কামরুজ্জামানকে (৫০) কলাবাগানে কাজ করার সময় রাসেল ভাইপার কামড় দেয়। টের পেয়ে রোগী নিজেই সাপটি মেরে সেটি ব্যাগে ভরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের আগেই তার মৃত্যু হয়। একইদিন দৌলতপুর উপজেলার গবরপাড়া গ্রামের কালু ম-ল (৩৫) নামে অন্য রোগী গভীর রাতে আম কুড়াতে গিয়ে গোখরা সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের আগেই মৃত্যু হয় বলে নিহতের পরিবারের দাবি।

এ ছাড়া গত ১৪ জুন মিরপুর উপজেলার তেঘড়িয়া গ্রামের চাষিবধূ জহিনা বেগম (৫৫) নিজ বাড়ির আঙিনায় পোয়াল গাদা থেকে খড় আনতে গেলে সেখানে লুকিয়ে থাকা গোখরা সাপের ছোবলে আহত হয়ে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এসেও বাঁচাতে পারেননি বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার রাত ৩টার সময় কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলীর ছেলে সাব্বির আহমেদ নিজ ঘরের বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড় দেয়। এতে সাব্বির অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গত ৭ জুন মিরপুর উপজেলার কুড়িপোল এলাকায় আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সাপের কামড়ে মারা যান।