নাঈম-সাদমানে ম্যাচে ফেরা

টেস্ট ক্রিকেট নাকি জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। প্রতিটা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই রঙ বদলায় এই খেলা, ভাগ্যের পেন্ডুলাম দোল খায় এপাশ থেকে ওপাশে। গল টেস্টে চতুর্থ দিনের সূর্যাস্তের পর দারুণ এক সম্ভাবনাই দেখছে বাংলাদেশ। পরবর্তী সূর্যাস্তের আগেই হয়তো ধরা দিতে পারে বহুল প্রত্যাশিত জয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৭ রান, তার আগে শ্রীলঙ্কাকে ৪৮৫ রানে প্রথম ইনিংসে অলআউট করে ১০ রানের লিড পেয়েছে সফরকারীরা। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন অফস্পিনার নাঈম হাসান। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি অপরাজিত ৫৬ রানে। তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম অপরাজিত আছেন ২২ রানে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৭৬ রানে আউট হয়ে গেছেন সাদমান ইসলাম।

দিনের শুরুতেই নাঈমের বলে ধনঞ্জয় ডি সিলভার দারুণ এক ক্যাচ ধরে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু দেন লিটন দাস। হাসান মাহমুদের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে দ্রুত বিদায় নেন কুশল মেন্ডিসও। লাঞ্চের আগেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বোলাররা শ্রীলঙ্কাকে দ্রুত অলআউট করার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাতে পানি ঢেলেছেন কামিন্দু মেন্ডিস। বাংলাদেশকে পেলেই তার ব্যাট চওড়া হয়ে ওঠে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি, তবে ৮৭ রানের ইনিংসটা ঠিকই শ্রীলঙ্কার ব্যবধানটা কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে। শেষদিকে মিলান রত্নায়েকের ৩৯ রানের ইনিংসটাও বুকে লেগেছে, বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের মাত্র ৩৭ রানে শেষ ৬ উইকেটের পতন আমলে নিলে ৮ নম্বর ব্যাটসম্যানের ৩৯ রানের ইনিংসটা যন্ত্রণাদায়কই। কামিন্দু মেন্ডিস আর মিলান রতœায়েকের ৮৪ রানের জুটিটা ভাঙতে পারত আরও আগেই। তার রান যখন মাত্র ৭ তখন রিটার্ন ক্যাচটা হাতে জমাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। যার খেসারতটা দিল বাংলাদেশ।

লিড নেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও বাংলাদেশের চেয়ে প্রথম ইনিংসে ১০ রান কম করে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ১৩১.২ ওভারে ৪৮৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ১২১ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন নাঈম হাসান। ক্যারিয়ারে এক ডজন টেস্ট খেলা হলেও এর আগে বিদেশে খেলেছিলেন মাত্র এক টেস্ট, সেটাও কনকাশন বদলি হিসেবে, তাই বল করতে পারেননি! গল টেস্টেই বিদেশের মাটিতে বোলিংয়ে অভিষেক নাঈমের। উপলক্ষটা রাঙিয়েছেন পাঁচ উইকেট শিকার করে। রিভার্স সুইপের চেষ্টারত আসিথা ফার্নান্দোকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি এবং শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি, দুটোই নিশ্চিত করেছেন নাঈম।

মাত্র ১০ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আবারও এনামুল হক বিজয়ের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া বিজয় দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৪ রান। টেস্টে কেন তাকে সুযোগ দেন নির্বাচকরা সেই প্রশ্ন উঠল আবারও, অবশ্য জাকির হাসান বা মাহমুদুল হাসান জয়দের ব্যাট রানের ভাষায় কথা বললে বিজয়ের দ্বারস্থ হতে হয় না এটাও সত্য। কিছুটা স্বভাববিরূদ্ধ ব্যাটিং করে ১২৬ বলে ৭৬ রান করে আউট হয়েছেন সাদমান। উইকেটে থিতু হতে সময় নেন। বল মাঝ ব্যাটে খেলার চেয়ে ছাড়তেই যেন বেশি পছন্দ তার। ৭ বাউন্ডারিতে ৭৬ রানের ইনিংসের শেষটা মিলান রত্নায়েকের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে। তার আগে অবশ্য মুমিনুল হকের উইকেটও তুলে নেন আরেক রত্নায়েকে, যার নামের শুরুতে থারিন্দু। সুইপ করতে চেয়েছিলেন মুমিনুল, বল ব্যাট থেকে লাগে হেলমেটে এরপর হাওয়ায় ভাসে। সহজ ক্যাচটা ধরতে অসুবিধা হয়নি লাহিরু উদারার। শুরুতে দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান মিলে যোগ করেন ৬৮ রান। সাদমানের বিদায়ের পর শান্তর সঙ্গে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম। দিনের শেষবেলায় ফিফটি তুলে নিয়েছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে অপরাজিত শান্ত, সঙ্গে মুশফিক অপরাজিত ২২ রানে। বাংলাদেশের লিড ১৮৭ রানের। শেষদিনে প্রথম সেশনে দ্রুত আরও ১০০ রান তুলে শ্রীলঙ্কাকে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেই পারে বাংলাদেশ, অবশ্য বিদেশের মাটিতে ড্র করাটাও কম কৃতিত্বের নয়, তাই আজ যতক্ষণ সম্ভব ব্যাট করে সেই পথেও হাঁটতে পারেন মুশফিক-শান্তরা।