ব্যস্ত সড়ক, ছোট বড় নানা ধরনের যানবাহনের চলাচল। পাশাপাশি বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতেও ব্যবহার করতে হয় এই রাস্তা। কিন্তু এই সড়কের দুইপাশে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি মরা গাছ। শুকিয়ে যাওয়া এই বড় গাছগুলো যেকোন সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছের সারি চোখে পড়বে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার পৌরশহরের শ্রীপুর-টেংরা আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে। চার কিলোমিটার লম্বা এই সড়কের বেশ কটি স্থানে মরা আকাশমণিসহ নানা জাতের গাছ নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এসব শুকনো গাছ উপড়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে আরও বেড়েছে ঝড় বৃষ্টির কারণে। কিন্তু বিকল্প উপায় না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাছের নিচ দিয়েই চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসেন জানান ১৯৯৮ সালে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ ও বন ভিাগের নার্সারি বিভাগ সড়কের দু্ই পাশে এসব আকাশমণিসহ কড়ই গর্জন ও ইউক্যালিপটাস গাছের চারা লাগিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘কিছু দিন আগে এক বড় গাছ ভেঙে পড়ে পাশের বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে খুঁটি ভেঙে ফেলে। এ সময় চার পাঁচ ঘন্টা এ অঞ্চলে বিদ্যুত ছিলো না এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। সাময়িকভাবে আশপাশের বাসিন্দার নিজেরাই এসব ভাঙা গাছ সরিয়ে রাস্তায় গাড়ি চলাচলের উপযোগী করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এব্যাপারে প্রশাসনের কোন সহযোগিতা তারা পাননি।
বন বিভাগ বলছে অনেক আকাশমণি গাছ বয়সের কারনে স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছে। যে কোনো সময় মরা গাছ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই আশঙ্কার কথাও জানেন তারা। কিন্তু টেন্ডার না হলে সড়কের দু-পাশের সরকারী এসব গাছ কাটা যাবেনা বলেও অপারগতা স্বীকার করে বন বিভাগ।
শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে টেংরা বাজারের দিকে এগিয়ে গেলেই চোখে পড়ে মরা গাছের সারি। শুকিয়ে যাওয়া গাছ নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সড়কের দুপাশে। একটু ঝড়ো বাতাস বইলে দুলতে থাকে মরা গাছের ডালপালা। মাঝে মধ্যে ডালাপালা ভেঙে পড়ে সড়কের ওপরে। এমনকি বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে সড়কের পাশের জমিতে। আরও কিছু গাছে ডাল ভেঙে কোনরকম ঝুলে আছে।যেকোন সময় মাথার ওপর এসব ডাল খসে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে এসব গাছের নীচ দিয়ে চলাচল করেন পথচারীরা।
সড়কটি ধরে হাঁটলে চোখে পড়ে পাশেই কয়েকটি স্কুল ও মাদ্রাসা, রয়েছে এনজিওর কার্যালয় এবং দোকানপাট। ফলে দিনের বেলা এই পথ পথ ধরে শত শত যাত্রীর চলাচল। ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে যায় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। সড়কটিতে এমন মরা গাছের সংখ্যা প্রায় একশ’র কাছাকাছি। আবার কারও কারও বাড়ি ফ্যাক্টরির সীমানা প্রাচীরের ওপর মরা গাছ ভেঙে পড়ে আছে।
সড়কের পাশেই এক টুকরো জমি রাশিদা বেগমের। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগে একটি মরা আকাশি গাছ আমার ধানের জমিতে ভেঙে পড়ে। এই গাছের জন্য ক্ষেতের বেশ কিছু ধানও নষ্ট হয়। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও পরে থাকা গাছটি সরাচ্ছেনা কেউ’। আবার সরকারি গাছ বলে তিনিও গাছ কাটতে পারছেন না। এলাকার মুদি দোকানদার কবির হোসেন বলেন, ‘একটি বড় আকারের আকাশমণি গাছ আমার দোকানের বারান্দা ঘেঁষে হেলে আছে। যে কোনো সময় ভেঙে দোকানের ওপর পড়তে পারে। মরা এ গাছটি নিয়ে চরম ভয়ে থাকি। কখন যেন দোকানের ওপর পড়ে আমার দোকান ভেঙে চুরমার করে’। তিনি বলেন, ‘দ্রুত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এ সড়কের মরা গাছগুলো অপসারণ করুক, না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
শ্রীপুর উপজেলা প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) তৌফিক আহম্মেদ বলেন, ‘বিষয়টি জানা নাই। আগে মরা গাছগুলোর সংখ্যা নিশ্চিত করে নাম্বারিং করতে হবে। পরে নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো কাটতে হয়। তবে স্থানীয়রা এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মরা গাছগুলো কেটে অপসারণ করতে বন বিভাগের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বন বিভাগের নার্সারি প্রকল্প বিভাগের (মৌচাক অঞ্চল) রেঞ্জ কর্মকতা মনিরুল করিম বলেন, ‘স্থানীয় দুটি গ্রুপ এ গাছের বিক্রি এবং অর্থ লাভ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। আমরা দুটি পক্ষের সাথে একাধিক বার বসেছি। কিন্তু তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তিনি বলেন এ বনায়নের ৪০-৪৫ শতাংশ (অর্থমূল্য) উপকারভোগীরা পাবে। আর ৫৫ শতাংশ নানা বিভাগে প্রয়োজনীয় হারে বন্টন করা হবে। আমরা খুব চেষ্টা করছি এ সমস্যাটা সমাধান করতে। দু-পক্ষ সমাধানের চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসলেই আমরা করে ফেলবো’।