ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আলোচিত মো. কমল মিয়া (২৬) হত্যা মামলায় বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। রবিবার (২২ জুন) রবিবার কমল হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি সাজিমকে (২৩) ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।
এর আগে শনিবার র্যাবের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সাজিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার আগে গত শুক্রবার সাজিমের বাবাকে নজরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এ নিয়ে কমল হত্যা মামলায় মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ঘাগড়াপাড়া মোড় থেকে কমল মিয়াকে ডেকে নিয়ে মেরে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা কমলকে পুকুর থেকে উঠিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষাণা করে। এ সময় কমলের নাক-মুখ-কান দিয়ে অনেক রক্তকরণ হয়। মুখের দুই পাশে ছিল আঘাতের চিহ্ন।
পরিবারের দাবি ছিল এটি পরিকল্পিত হত্যা। কিন্তু প্রাথমিক সুরতহালে মরদেহে হত্যা প্রমাণিত হওয়ার মতো তেমন কোনো আলামত পায়নি পুলিশ। তবে কমলের পরিবার হত্যার অভিযোগ করায় লাশ ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে ঘটনার মূলহোতা রানা মিয়াসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
জানা যায়, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. কমল মিয়া একজন পোলট্রি ব্যবসায়ী ছিলেন। ৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের মাঝিয়াকান্দি গ্রামের মামলার অন্যতম আসামি রানা মিয়ার বাড়ি পাশে এই ঘটনা ঘটে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে থানায় সাতজনের নামে ১টি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। কমল হত্যা মামলায় পুলিশের তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার আসামি সাজিম ও তার বাবাকে এবং এজাহার নামীয় অপর একজন আসামিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।